Sudip Bandyopadhyay
Bengal Liberty: বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নেতৃত্ব এবং অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কুণাল ঘোষ, তাপস রায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের নানা মন্তব্য ও কটাক্ষ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নেতৃত্বকে ঘিরে ক্ষোভ ও পুরনো বিতর্ক (Sudip Bandyopadhyay)
তৃণমূলের অন্দরের একাংশের দাবি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুর্শিদাবাদের বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের একটি পুরনো বক্তব্যের সূত্র ধরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের পাশাপাশি তৃণমূলের একাংশও এই প্রবীণ নেতার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিভিন্ন সময়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে কটাক্ষ করেছেন। কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য এবং বিজেপি নেতা তাপস রায়ের আক্রমণাত্মক বয়ানকে হাতিয়ার করে বিরোধী শিবির দাবি করছে যে, তৃণমূলের প্রবীণ নেতৃত্ব এখন দলের অন্দরেই ‘রাজনৈতিক বোঝা’ হিসেবে গণ্য হচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ এবং দলবদলের জল্পনা (Sudip Bandyopadhyay)
রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর (ইডি ও সিবিআই) অতি-সক্রিয়তার আবহে এই রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ি অন্য মাত্রা নিয়েছে। একদিকে যখন নিয়োগ দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় মদন মিত্রসহ একাধিক নেতার ওপর চাপ বাড়ছে, এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় এজেন্সির মুখোমুখি হতে হচ্ছে; ঠিক তখনই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মহুয়া মৈত্রের মতো নেতারা।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সির মামলা ও আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা দিল্লিতে এনডিএ শিবিরের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ধরনের জল্পনাকে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই মনে করছে।

বিজেপির আক্রমণ ও পালটা দাবি (Sudip Bandyopadhyay)
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়গুলোর আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের দাবি, শাসকদলের ভেতরের এই অন্তর্ঘাত ও গৃহযুদ্ধই প্রমাণ করে যে বাংলায় তৃণমূলের বিকল্প একমাত্র বিজেপি। সংসদের আগামী অধিবেশনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।


