Leader of Opposition
Bengal Liberty : রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক আরও তীব্র হল কলকাতা হাইকোর্টে (Leader of Opposition)। এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি, অন্যদিকে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র দেখিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানান বিধায়ক সন্দীপন সাহা। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন, তার আগেই শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রাখল হাইকোর্ট (Leader of Opposition)।

কৃষ্ণা রাওয়ের প্রশ্ন (Leader of Opposition)
তিনি প্রশ্ন করেন, ৯ মে স্পিকার প্রথম চিঠি পাওয়ার পর তা ঝুলিয়ে রাখলেন কেন? কেন কোনও বৈঠক ডাকলেন না, কোনও সিদ্ধান্তও নিলেন না প্রথম প্রস্তাবের? প্রথম আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্পিকারের বাধা কোথায় ছিল? স্পিকারকে আরও কড়া ভাষায় প্রশ্ন করে বলেন, দলকে না শুনে শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি? তিনি আরও প্রশ্ন করে বলেন, আগে তো ৭৮ জনের সমর্থনের দাবি ছিল। সেই দাবির সত্যতা যাচাই কোথায়? জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়ার পরও অন্য পক্ষকে না শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি? শুধু FIR হয়েছে বলেই কাউকে জালিয়াতি করেছে বলা যায় না। তৃণমূলের প্রথম আবেদন কেন উপেক্ষা করা হল আদালত তা বার বার জানতে চাইছে।

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ (Leader of Opposition)
স্পিকারের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে একাধিক প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। পাশাপশি বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েই সরব হল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানান, একদিকে জালিয়াতির অভিযোগ, অন্যদিকে নতুন দাবি, এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকেই ডেকে শুনানি করা উচিত ছিল। প্রথম আবেদনকারীকে কেন ডাকা হয়নি? প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিচারপতির মতে, স্বাক্ষর আদৌ জাল কি না, সেই বিতর্কে এই মুহূর্তে আদালত প্রবেশ করতে চায় না। তবে যিনি প্রথমে দাবি জানিয়েছিলেন, তাঁকে বক্তব্য পেশের সুযোগ না দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সেটাই মূল বিবেচ্য বিষয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক যে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই ‘প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার’-এর নীতি মেনে চলা আবশ্যক। এদিন বিচারপতি আরও মন্তব্য করেন, শুধুমাত্র একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলেই কাউকে জালিয়াত বলে ধরে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে স্পিকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, ৫৮ জন বিধায়ক সরাসরি উপস্থিত থেকে সমর্থন জানিয়েছিলেন ঋতব্রতকে। সেই কারণেই পৃথকভাবে স্বাক্ষর যাচাইয়ের প্রয়োজন মনে করা হয়নি।



