Leader of Opposition
কলকাতা, ১৮ জুন: বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলা রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ধাক্কা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হল না আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগই বহাল থাকবে।

এই নির্দেশের ফলে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের আগে আদালতের এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট হয়েছে যে, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের বর্তমান সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করবেন। (Leader of Opposition)
গত কয়েকদিন ধরে এই মামলাকে ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে বিস্তারিত শুনানি চলে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া, বিধানসভার নিয়ম এবং স্পিকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা জোরালো সওয়াল করেন। বিশেষ করে স্পিকার কেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম প্রস্তাব খারিজ করে অন্য একজনকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আদালত একাধিক প্রশ্ন তোলে।

তবে চূড়ান্তভাবে অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ে আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানান, বিষয়টি এখনও বিচারাধীন এবং সমস্ত পক্ষের বক্তব্য ও নথি খতিয়ে দেখার পরই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সেই কারণে এই মুহূর্তে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে আদালত মনে করেছে। (Leader of Opposition)
এদিন আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিনও নির্ধারণ করে দেয়। আগামী ২৮ জুলাই মামলাটির পুনরায় শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে। তার আগে সমস্ত পক্ষকে তাদের হলফনামা ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হাইকোর্টের এই নির্দেশ আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশলে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর। আদালতের নির্দেশের ফলে বাজেট অধিবেশনের আগে বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে আর কোনও প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক জটিলতা থাকছে না। তবে মামলার চূড়ান্ত রায়ের দিকে এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল এবং বিধানসভার সদস্যদের।


