Suvendu Adhikari
Bengal Liberty: রাজনৈতিক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম পর্ব। তবে অধিবেশন কক্ষের ভেতরের আলোচনার চেয়েও আজ বেশি চর্চা চলল সৌজন্য আর উপেক্ষার এক অদ্ভুত রসায়ন নিয়ে। যার একদিকে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্যপালের প্রতি সৌজন্য, আর অন্যদিকে বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কদের প্রতি সুকৌশলী রাজনৈতিক দূরত্ব (Suvendu Adhikari)। মাঝখান খেকে ঋতব্রতর নব তৃণমূলের বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীর সান্নিধ্য রইলেন।

শুভেন্দু-রাজ্যপাল রসায়ন: (Suvendu Adhikari)
বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের শুরুর দিন রাজ্যপালের ভাষণের পর বিধানসভার অধিবেশনে এক নজিরবিহীন সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ে। ভাষণ শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং রাজ্যপালকে সম্মান জানাতে এগিয়ে আসেন। শুধু কক্ষের ভেতর নয়, নিয়মমাফিক ও সম্মান প্রদর্শনের খাতিরে তিনি রাজ্যপালকে একেবারে বিধানসভার বাইরে পর্যন্ত এগিয়ে দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিককালে রাজভবন-নবান্ন টানাপোড়েনের আবহে রাজ্য বিজেপি সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
মুখ্য়মন্ত্রীর শুভেন্দুর ‘বাছাই করা’ নমস্কার:
তবে আসল নাটকীয়তা তৈরি হয় যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা কক্ষে প্রবেশ করছিলেন। কক্ষে ঢোকার সময় সামনেই বসেছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য বিধায়করা। তাঁদের দেখা মাত্রই এগিয়ে গিয়ে সৌজন্য বসত নমস্কার জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।
কিন্তু ঠিক তার পরের মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ঋতব্রতদের কাছাকাছিই বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বিধায়ক। শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কার্যত ‘না দেখার ভান’ করে সোজা এগিয়ে যান। মমতা-ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের উপস্থিতিকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে, তাঁদের বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়েই নিজের আসনের দিকে হেঁটে যান মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভার অলিন্দে এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ফিসফাস শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এই আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিলেন যে, রাজনীতিতে সৌজন্য তিনি দেখাবেন, তবে তা হবে অত্যন্ত ‘বাছাই করা’। তৃণমূলের অন্দরে কার সঙ্গে কতটা দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, তা যেন আরও একবার মেপে বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সব মিলিয়ে, অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিধানসভার অন্দরে সৌজন্য ও উপেক্ষার এই টানাপোড়েন আগামী দিনগুলোর জন্য পারদ আরও চড়িয়ে দিল রাজ্য় রাজনীতিতে।
আরও পড়ুন: নারী ও রাজ্য সুরক্ষা প্রদানে সিদ্ধহস্ত রাজ্য! বার্তা রবির


