Nadia
Bengal Liberty : সমস্ত নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারি ভেলকিতে ঘটে গেল এক মিরাকল! পুরুষ হয়েও বহালতবিয়াতে ৫ বছর ধরে ‘বিধবা ভাতা’র টাকা পাচ্ছেন নদিয়া জেলার সরাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের চরসরাটি এলাকার নরেন ঘোষ (Nadia)। স্ত্রী বহাল তবিয়তে বর্তমান, দিব্যি সংসার সামলাচ্ছেন, আর এদিকে তাঁর স্বামী মশাই গত পাঁচ বছর ধরে সরকারি খাতায় বিধবা হওয়ার শোক পালন করছেন! আর সেই শোকের সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে প্রতি মাসে তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাচ্ছে বিধবা ভাতা। রাজ্যে পুরুষ লক্ষ্মীর আবিষ্কারের পর এবার খোঁজ মিলল আস্ত এক পুরুষ বিধবার। এ যেন এক আশ্চর্য উন্নয়ন। যেখানে কোনও কিছুই সরকারি ভাতার পথে বাধা হতে পারে না (Nadia)!

ক্ষেপে আগুন স্থানীয় তৃণমূল উপপ্রধান (Nadia)
নদিয়া জেলার চরসরাটি এলাকার বাসিন্দা নরেন ঘোষ দীর্ঘ ৫ বছর ধরে এই ‘বিধবা ভাতা’ পেয়ে আসছেন। স্থানীয় তৃণমূল উপপ্রধান বৈদ্যনাথ দাসের কাছে এই বিষয়ে সত্যতা জানতে চাওয়া হলে তিনি রীতিমতো রেগে আগুন হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকদের দালাল তকমা দিয়ে নোংরা ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। নিজের ও পঞ্চায়েতের দায় ঝেড়ে ফেলে তিনি পুরো দোষ চাপান বিডিও অফিসের ওপর। তাঁর দাবি, আবেদনপত্র যাচাই বা স্ক্রুটিনির ক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকদেরই গাফিলতি ছিল। যদিও নরেনবাবুর স্ত্রী সুমতি ঘোষের দাবি, তাঁরা বার্ধক্য ভাতার আবেদন করেছিলেন, প্রশাসনিক কোনও ভুলেই তা বিধবা ভাতা হয়ে অনুমোদন পেয়ে যায়।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী (Nadia)
এই ঘটনায় স্বভাবতই ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, আবেদনপত্র জমা নেওয়ার সময় স্থানীয় পঞ্চায়েতের উচিত ছিল বিষয়টি খতিয়ে দেখা। বিরাট এই ভুল চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবেই স্থানীয় তৃণমূল নেতারা পুরো দুর্নীতিটি আড়াল করে রেখেছিলেন। অন্যদিকে, এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, “তৃণমূল সরকারের আমলে সবকিছুতেই দুর্নীতি হয়েছে। ভুল ঢাকতে গিয়ে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করা কোনও জনপ্রতিনিধির শোভা পায় না।”


