Ritabrata & Sandipan
Bengal Liberty : আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কৃত বলা যাবে না (Ritabrata & Sandipan)! এমনকি এও বলা যাবে না যে, তাঁরা দুজন তৃনমূলের সদস্য বলে গণ্য নন। নির্দেশ আদালতের। এমনকি বহিষ্কারের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না। তার পাশপাশি সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ, বিধানসভা বা দলীয় সংগঠনকে বহিষ্কারের তথ্য পাঠাতে পারবে না। তার সাথেই তাঁদের দলের অর্থাৎ তৃণমূলের সদস্য বলে গণ্য হবে, জানিয়ে দিয়েছে আদালত। উল্লেখ্য, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা কয়েক জন বিধায়ক আলিপুর আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে, দল তাঁদের বহিষ্কার করেছে। ঋতব্রত, সন্দীপন সহ বেশ কিছু বিধায়কের দাবি ছিল, এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রতিহিংসামূলক হতে পারে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজ, বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করল আদালত (Ritabrata & Sandipan)।

ঋতব্রতদের অভিযোগ (Ritabrata & Sandipan)
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা-সহ কয়েকজন বিধায়ক আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন যে, দল তাঁদের অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করেছে।বিধায়কদের দাবি, ১ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁদের বহিষ্কারের নোটিস দেওয়া হলেও তার আগে কোনও শোকজ নোটিস জারি করা হয়নি, নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি এবং কোনও বিভাগীয় তদন্তও করা হয়নি। এমনকি নিজেদের বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও তাঁদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।আবেদনকারীদের আরও বক্তব্য, তাঁরা দলের কিছু নথি ও স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ তথা স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তদন্তও শুরু হয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই পদক্ষেপের পরই হঠাৎ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রতিহিংসামূলক হতে পারে।আদালতে তাঁরা বহিষ্কারের নির্দেশ কার্যকর করার উপর স্থগিতাদেশ, তাঁদের বহিষ্কৃত বলে প্রচার বন্ধ করার এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার আর্জি জানান।

আদালতের পর্যবেক্ষণ (Ritabrata & Sandipan)
আলিপুর আদালত প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বহিষ্কার নির্দেশে কোনও শোকজ নোটিসের উল্লেখ নেই। বিধায়কদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ কী ছিল, তাও স্পষ্ট করা হয়নি। পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্য শোনার জন্য কোনও শুনানিও হয়নি। আদালতের মতে, যদি সত্যিই কোনও শুনানি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী এবং আইনি ত্রুটিপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহিষ্কার করার আগে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মানেননি।বিচারকের পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারীরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাঁদের বহিষ্কৃত বলে প্রচার চলতে থাকলে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি, দলীয় অবস্থান এবং জনসমক্ষে সুনামের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই আদালতের পর্যবেক্ষণ তাঁদের বহিষ্কার বলা বন্ধ থাকবে। পাশাপশি তাঁরা দলের সদস্য বলেই গণ্য হবে।



