Mahakaran
Bengal Liberty : মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুক্রবার প্রথমবার পা রাখেন শুভেন্দু (Mahakaran)। মহাকরণের সামনে যোগাসন করলেন তিনি। এই মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং কার্যত নবান্নের জৌলুসের সামনে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলের মতো ছিল। এই লালবাড়ি রাজ্যের রাজধানী কলকাতার বিবাদীবাগ অঞ্চলে লালদিঘির উত্তরে অবস্থিত। একসময় কলকাতার মহাকরণ ভবন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক সময়ের মুখ্য সচিবালয় ছিল। ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কর্মক্ষেত্র ছিল মহাকরণ। বুদ্ধবাবু রাইটার্স ছাড়লেন আর তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসতেই রাতারাতি গজিয়ে উঠল নবান্ন। সরকারি প্রশাসনিক প্রায় সমস্ত কাজই পরিচালনা হত নবান্ন থেকে। ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং ঘিরে ব্যস্ততা আর চোখে পড়ত না। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বারংবার রাইটার্স বিল্ডিংয়ের আভিজাত্য ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। এবার কি সেই আশ্বাস পূরণেই ছোটো ছোটো পায়ে এগিয়ে চলেছে বর্তমান বিজেপি সরকার (Mahakaran)?

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মহাকরণে শুভেন্দু (Mahakaran)
ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম হাতিয়ার ছিল এই রাইটার্স বিল্ডিং। ক্ষমতায় এলে নবান্ন নয়, সরকার পরিচালিত হবে মহাকরণ থেকে, একাধিক ইন্টারভিউতে এমনটাই জানিয়েছিেলন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টচার্য, এবং তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ৪ঠা মে বিপুল আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। তারপর এই প্রথম মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে উপস্থিত হলেন শুভেন্দু। শুক্রবার মহাকরণের সামনে আয়োজন করা হয়েছিল যোগাসনের। কর্পোরেশন থেকে মহাকরণ পর্যন্ত ম্যারাথনের পর সেখানে যোগাসন করেন শুভেন্দু। তাতে শামিল হয়েছিলেন বহু মানুষ।

কেমন আছে রাইটার্স? (Mahakaran)
বর্তমানে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের অবস্থা খুব একটা ইতিবাচক নয়। ২০২১ সালে মহাকরণে শেষ সংস্কারের কাজ হয়েছিল। সংস্কার বাবদ বেশ কয়েক কোটি টাকা খরচও করা হয়েছিল। হেরিটেজ কমিটির অনুমোদন এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে মহাকরণের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল। ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত মুখ্যমন্ত্রীর দফতর ও তার সংলগ্ন বৈঠকখানা বর্তমানে সংস্কারের আওতায় রয়েছে। শৌচাগারে জল দ্রুত ফুরিয়ে যায় এবং তা নিয়মিতভাবে পুনরায় সরবরাহ করা হয় না। শুধু তাই নয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও একাধিক গলদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি মহাকরণের বিভিন্ন অংশে দেওয়ালের রং ও সিমেন্ট খসে পড়ছে বলেও জানা গেছে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী এই লালবাড়ির আভিজাত্য কবে ফিরিয়ে দেবেন সেটাই দেখার।



