Supreme Court
Bengal Liberty:
এসআইআর (Supreme Court) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই কোনও ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। শুক্রবার এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ মৌখিক পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসুর দায়ের করা মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার সঙ্গে নাগরিকত্ব হারানোর কোনও স্বয়ংক্রিয় সম্পর্ক নেই।
আদালত জানায়, ভারতে ভোটার হওয়ার অন্যতম শর্ত ভারতীয় নাগরিক হওয়া হলেও, শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে কাউকে নাগরিক পরিষেবা বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এমনও ধরে নেওয়া যাবে না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর ভারতীয় নাগরিক নন।

নাম বাদ গেলেও নাগরিকত্ব থাকুক অটুট Supreme Court
শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রসেনজিৎ বসুর আবেদনের শুনানি করে। আদালত স্মরণ করিয়ে দেয়, বিহার এসআইআর সংক্রান্ত রায়েই স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশন নয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শুধুমাত্র ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধন করা। কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও তার নাগরিকত্ব নির্ধারণ বা বাতিল করার ক্ষমতা কমিশনের নেই।

শুনানিতে প্রসেনজিৎ বসুর পক্ষে সওয়াল করেন সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি আদালতকে জানান, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৩৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের পক্ষে রায় এসেছে। পাশাপাশি তিনি জানান, দুটি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।

সরকারি সুবিধা বন্ধের অভিযোগ
আইনজীবীর আরও অভিযোগ, আপিল বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের গণবণ্টন ব্যবস্থা (পিডিএস), অন্নপূর্ণা যোজনার মতো কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এমনকি তাঁদের জাতিগত শংসাপত্রও দেওয়া হচ্ছে না বলেও আদালতে দাবি করা হয়।

এই প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, আদালত বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। বিহার এসআইআর মামলার রায়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের কোনও সিদ্ধান্ত হলে তা নাগরিকত্ব আইনের অধীনে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে।
বিচারপতি বাগচি আরও বলেন, সংবিধানের ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণকারী সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নয়। কমিশন ভোটার তালিকায় কাউকে অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু তার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের মর্যাদা নষ্ট হয় না।
উল্লেখ্য, এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। পশ্চিমবঙ্গ সংক্রান্ত মামলায় আবেদনকারী প্রশান্ত বোসের পক্ষেও একই আইনজীবী আদালতে জানান, রাজ্যে এখনও প্রায় ৩৪ লক্ষ ভোটারের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। মাত্র ৩৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং দুটি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।

