Ritabrata Banerjee
Bengal Liberty: ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে মেয়ো রোডের সভা থেকে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দলীয় তহবিল, কেরল হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ, তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট এবং একুশের মঞ্চের সংস্কৃতি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক দাবি ও বড় ঘোষণা করেন তিনি।
মেয়ো রোডের সভা থেকে ঋতব্রত কটাক্ষ করে বলেন, “এতদিন ধরে শহিদ দিবসের মঞ্চকে রাজনৈতিক কর্মীদের বদলে রিয়্যালিটি শো বা ক্যাটওয়াকের মঞ্চ বানিয়ে রাখা হয়েছিল। নেতা-কর্মীদের বদলে মঞ্চে জায়গা পেতেন সিনেমার কলাকুশলী বা সিরিয়ালের পার্শ্ব চরিত্রের তারকারা।”

অভিযোগের সুর চড়িয়ে তিনি আরও বলেন, “যাঁরা ঘাম ঝরিয়ে লোক জমায়েত করান কিংবা কর্মীদের আইনি লড়াই লড়তে নিজেদের জমি পর্যন্ত বিক্রি করেন, তাঁরা সবসময় পিছিয়ে থেকেছেন।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে তাঁর অভিযোগ, এতদিন শহিদ দিবসের নামে একপ্রকার রিয়্যালিটি শো চালানো হয়েছে, যেখানে মূল রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্ব কমিয়ে নির্দিষ্ট কিছু মুখ ও তারকাদের প্রাধান্য দেওয়া হতো।
পাশাপাশি, সোমবার বিধানসভায় বর্তমান সরকার সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত প্রশ্ন তোলেন, এতদিন কেন এই রিপোর্ট ঠান্ডা ঘরে ফেলে রাখা হয়েছিল? তাঁর দাবি, রিপোর্টে নিহতদের ২৫ লক্ষ এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের সুপারিশ থাকলেও তৎকালীন সরকার দিয়েছিল মাত্র ২ লক্ষ ও ১৫ হাজার টাকা। কাদের আড়াল করতে এই রিপোর্ট চেপে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তুলে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন তিনি।
দলের আর্থিক তছরুপ ও মানি লন্ডারিংয়ের মারাত্মক অভিযোগ তুলে ঋতব্রত দাবি করেন, তৃণমূলের তহবিলের শুধুই সুদের টাকা বছরে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা! সেই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় গেল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন— কেরল হয়ে সেই টাকা মধ্যপ্রাচ্য এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জগুলিতে পাচার (মানি লন্ডারিং) করা হয়েছে। এছাড়া, বিজেপির সঙ্গে ‘সেটিং’ করে তৃণমূল সংসদে একের পর এক বিল পাস করাতে সাহায্য করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

তবে এসবের মাঝেই এক বড় ঘোষণা করে ঋতব্রত জানান, নির্বাচন কমিশন স্বীকৃতি দিলে দলের এই বিপুল তহবিল থেকেই ২১ জুলাইয়ের প্রতি শহিদ পরিবারকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সভা শুরুর আগেই বিভিন্ন জায়গা থেকে মেয়ো রোডের সমাবেশে আসার পথে দলীয় কর্মীদের ভয় দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর এবং মারধরের অভিযোগ তোলেন তিনি। সব মিলিয়ে, একুশের মঞ্চকে ঘিরে মেয়ো রোডের এই সভা থেকে ঋতব্রতের একের পর এক অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

