Suvendu Adhikari
Bengal Liberty
পালা বদলের প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছিলেন, রাজ্যে কোন তোলাবাজি, দুর্নীতি চলবে না। প্রশাসনে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পরিচয় রাজ্যের মানুষ একাধিক বার পেয়েছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং প্রশাসনে দুর্নীতিগ্রস্তদের কোনও জায়গা নেই।
রাজ্যে সরকার বদলের পর একাধিক বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তৎপরতার সাথে প্রতিটি কাজ খতিয়ে দেখা সহ অপরাধীর শাস্তি হয়েছে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই। তারাতলা বহুতল ধসে অপরাধীদের আটক করা হয়েছে, বারুইপুর ধর্ষণ কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ হয়েছে। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ ট্রেন দুর্ঘটনায় গেটম্যানদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজ্যে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি তোলাবাজি বন্ধ করার বার্তা বহু আগেই দিয়েছিলেন শুভেন্দু।

আজ, রামপুরহাট চেকপোস্টের দীপক সিংয়ের মালিকানাধীন এবং শিবা যাদবের চালিত একটি গুডস ক্যারিয়ার ট্রাক (JH09BA3535) সার্ভিসিং করিয়ে গ্যারেজে ফেরার পথে ওই চেকপোস্টে অন্যায়ভাবে আটকানো হয়। অভিযোগ, সেখানে দায়িত্বরত আধিকারিকরা লরি চালককে অহেতুক হেনস্থা করেন এবং ঘুষ দাবি করেন। তবে তোলাবাজির অভিযোগ আসতেই দ্রুত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহণ দফতর। সাসপেন্ড করা হয়েছে শ্রী নাজিমুল হক এবং শ্রী অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
অভিযোগ, JH09BA3535 নম্বরের একটি পণ্যবাহী ট্রাক সার্ভিসিং শেষে গ্যারেজে ফেরার পথে রামপুর চেকপোস্টে বেআইনিভাবে আটকানো হয়। ট্রাকের চালক শিবা যাদবকে ঘুষ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে গাড়িটি আটকে রেখে ২২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই টাকা আদায়ের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন ওই দুই এমভিআই।

অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দ্রুত পদক্ষেপ করে পরিবহণ দফতর। ‘পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যাপিল) রুলস, ১৯৭১’-এর ৭(১)(এ) ধারা অনুযায়ী দুই এমভিআই-কে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, বেআইনিভাবে আটকে রাখা গাড়িগুলি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও জারি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর চরম হুঁশিয়ারি
মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছিলেন, প্রশাসনের কোনও স্তরেই দুর্নীতি বা হেনস্থা বরদাস্ত করা হবে না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, শুধু কথায় নয়, কাজেও করে দেখালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তোলাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িত যেকোনো সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই অনড় থাকবে।

