Bengal Liberty:
কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ—ক্যারিবিয়ান সাগরের এক ব্রিটিশ শাসিত দ্বীপ অঞ্চল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এই দ্বীপের কী যোগাযোগ রয়েছে, তা জানলে চমকে যেতে হয়। ‘কালীঘাটের কাকু’ বা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই দ্বীপের আর্থিক যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

Abhishek Banerjee
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই দ্বীপে ডায়মন্ড হারবারের দুইবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রাথমিক তথ্য ইতিমধ্যেই তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে এসে পৌঁছেছে।
Abhishek Banerjee কেন বারবার দেশ ছাড়ার আবেদন অভিষেকের?
গ্র্যান্ড কেম্যান, কেম্যান ব্র্যাক এবং লিটল কেম্যান—এই তিনটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটির রাজধানী জর্জ টাউন। প্রশ্ন উঠছে, নিজের বিপুল পরিমাণ অর্থ নিরাপদে রাখার জন্য কেন অভিষেক এই দ্বীপপুঞ্জকেই বেছে নিলেন?
Abhishek Banerjee

আন্তর্জাতিক স্তরে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো বৈশ্বিক আর্থিক পরিষেবা এবং পর্যটন শিল্প। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখানে কোনো প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর ব্যবস্থা নেই। আয়ের ওপর কোনো ট্যাক্স, মূলধনী লাভ (Capital Gains) বা কর্পোরেট ট্যাক্স না থাকার কারণেই কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের গচ্ছিত অর্থ ধরে রাখতে কেম্যান দ্বীপকে বেছে নিয়েছিলেন?
কিন্তু একজন সাধারণ সাংসদের কাছে এত বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস কী?
তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রাথমিক অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে কয়লা পাচার, গরু পাচার, বালি ও মাটি চুরি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনিভাবে ব্যবহার করে উপার্জিত কালো টাকা কেম্যান দ্বীপে পাঠিয়েছেন অভিষেক।
Abhishek Banerjee

অভিষেকের বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে বিরোধীরা, বিশেষ করে বিজেপি, বহু আগেই প্রশ্ন তুলেছে। ইউরোপ সফর, ব্যক্তিগত চার্টার্ড বিমান ব্যবহার কিংবা বিদেশে চিকিৎসার নামে ঘনঘন যাতায়াত নিয়ে বারবার রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
Abhishek Banerjee
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় হলফনামায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দেখিয়েছিলেন ১ কোটি ২৬ লক্ষ ২০ হাজার ২০৪ টাকা। এর মধ্যে তাঁর হাতে নগদ ছিল ৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩৩৫ টাকা, পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ ছিল ৮৫ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯০৮ টাকা এবং তিনটি জীবনবিমার মোট মূল্য ছিল ৩১ লক্ষ টাকা।
Abhishek Banerjee
এই প্রেক্ষাপটে, প্রতিবার চোখের চিকিৎসার দোহাই দিয়ে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মতে, তিনি কি তবে তদন্ত থেকে বাঁচতে স্থায়ীভাবে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন? কারণ গচ্ছিত এই বিপুল অঘোষিত অর্থই এখন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে কলকাতায় এনআইএ থানার অনুমোদন, নিউ টাউনে চালু হচ্ছে রাজ্যের প্রথম কেন্দ্রীয় তদন্ত থানা

