Bengal Liberty : আর মাত্র কয়েকদিন পর, ১১ আগস্ট ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের জন্মদিন (Chandranath Rath)। কিন্তু আগস্ট মাস শুরুর আগেই সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়ল চন্দ্র খুনের মূল কালপ্রিট। চন্দ্রনাথ রথের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বলাই বাহুল্য তাঁর ‘ছায়াসঙ্গী’ সাগর সোনকারকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে সাহিব সোনকারকেও। তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি, কর্মসূচি এবং ব্যক্তিগত তথ্য টাকার বিনিময়ে বাইরে পাচার করতেন এই সাগর। সিবিআইয়ের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা একাধিক তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি (Chandranath Rath)।

কে এই সাগর? (Chandranath Rath)
সাগর সোনকারের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। জয়পুরিয়া কলেজে পড়াকালীন তিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সক্রিয় মুখ ছিলেন। উত্তর কলকাতায় তৎকালীন তৃণমূল মন্ত্রী শশী পাঁজার ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিতি ছিল তাঁর। পরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। দলের সাংগঠনিক কাজে দক্ষ হওয়ায় তাঁকে শুভেন্দু অধিকারীর শিবিরে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চন্দ্রনাথ রথ নিজেই তাঁকে নিজের টিমে নিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, কর্মসূচির পরিকল্পনা, বিভিন্ন নথিপত্র ও যোগাযোগের কাজ সামলাতে শুরু করেন সাগর। যে কারণে চন্দ্রনাথ রথের দৈনন্দিন কর্মসূচি, কোথায় যাচ্ছেন, কখন ফিরছেন, এই সব তথ্যও তাঁর নখদর্পণে ছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চন্দ্রনাথের সবচেয়ে ‘বিশ্বাসভাজন’ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন এই সাগর।
সিবিআইয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, খুনের ষড়যন্ত্রে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, শুটারদের জোগাড় করা, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার ব্যবস্থা করা এবং হত্যার আগে রেকি করানোর কাজেও তারা সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল।
আরও খবর

জীবন দিয়ে মানুষ চেনাল চন্দ্র-দা! (Chandranath Rath)
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ। যে ব্যক্তিকে সবচেয়ে বেশি ভরসা করতেন চন্দ্রনাথ রথ, সেই সাগর সোনকারের বিরুদ্ধেই উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সিবিআই সূত্রের দাবি, চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি ও যাতায়াত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সিবিআই সূত্রের দাবি, ঘটনার দিন চন্দ্রনাথ রথ নিজাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তাঁর গতিবিধির সমস্ত তথ্য সাগরের জানা ছিল। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, সেই তথ্য বাইরে পাচার করা হয়। এরপরই হামলাকারীরা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনার পর থেকেই সাগরের আচরণ নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।সিবিআই একই সঙ্গে সাহিব সোনকারকেও গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ২ জনের কাছ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। এখন সেই তথ্য যাচাই করে গোটা ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে আর কারা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চন্দ্রনাথ হয়তো মানুষ চিনতে ভুল করেছিলেন, কিন্তু নিজের জীবন দিয়েই তিনি আসল মানুষ চিনিয়ে দিয়ে গেলেন।

আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/07/31/chandranath-rath-4/


