Bengal Liberty
কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ২০১৪ সালে ক্ষমতায়(Omar Abdulla) আসার পর একের পর এক প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে ভারতবাসীর মন জয় করেছে। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ থেকে শুরু করে তিন তালাক আইন কিংবা এনআরসি—একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি করে আসছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিষয় ছিল কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা। একসময় জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা দেওয়া সেই সাংবিধানিক ব্যবস্থাও ২০১৯ সালে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের মাধ্যমে বাতিল করে কেন্দ্র।


কাশ্মীরের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করলেও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ এখনও কেন্দ্রের সমালোচনা করে চলেছেন। ফারুক আব্দুল্লা, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হল জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং ফারুক আব্দুল্লার পুত্র ওমর আব্দুল্লার নাম। শনিবার শ্রীনগরে স্বাধীনতা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান ওমর। তাঁর বক্তব্য,
“নরেন্দ্র মোদী সরকার যদি জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল না করত এবং রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে না নিত, তাহলে অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য সোচ্চার হত।”
আরও খবর
খবরে থাকার চেষ্টা(Omar Abdulla)
ওমর আব্দুল্লা বলেন, “সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি দেখে আমার মনে হয়, আমাদের পূর্বপুরুষরা যে বলতেন, ‘হামলাবার খবরদার, হাম কাশ্মীরি হ্যায় তৈয়ার’ (আক্রমণকারীরা সাবধান, আমরা কাশ্মীরিরা প্রস্তুত), তা সঠিকই ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “পিওকে-র পরিস্থিতি দেখে আমি ব্যথিত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ও বিশেষ মর্যাদা বাতিল না করা হলে, আজ পিওকে-র মানুষ জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার দাবিতে সোচ্চার হতেন।” ওমরের কথায়, “আমরা বিধানসভায় ওপারকার অংশের জন্য আসন ফাঁকা রেখেছি। আমরা আশা করি, সেগুলি একদিন পূরণ হবে।”
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি তাঁকে ব্যথিত করছে। সেখানে গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অসংখ্য মানুষ আহত ও কারারুদ্ধ হয়েছেন।
ওমরের মন্তব্যে পাল্টা বিজেপি(Omar Abdulla)
এই মন্তব্যের পরেই নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ওমর আব্দুল্লার বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির উপত্যকার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা।
তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। জাতীয় পতাকাকে উদযাপন করার মতো একটি দিনে তিনি রাজনীতি করছেন। তাঁর উচিত ছিল এই উপলক্ষকে নিজের কাজের খতিয়ান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার কাজে ব্যবহার করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি এটিকে রাজনীতির কাজে লাগিয়েছেন।” সুনীল আরও বলেন, “আমাদের সরকার রাজ্যের মর্যাদা ও সাংবিধানিক সুরক্ষা পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করতে এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
স্বাধীনতার দিনেও রাজনৈতিক তরজা(Omar Abdulla)
স্বাধীনতার শুভ দিনেও শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে। ওমর আব্দুল্লার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতি। একদিকে পিওকে-র পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওমর, অন্যদিকে তাঁর মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে পাল্টা আক্রমণ করেছে বিজেপি। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চেও রাজনৈতিক সৌজন্যের জায়গা যে ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, এই ঘটনাকে ঘিরে সেই প্রশ্নই ফের সামনে এসেছে। ওমরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ‘ভূস্বর্গে’ নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।



