Bengal Liberty
‘এই পুলিশকে আমি চিনি না। আমি যে পুলিশদের(Mamata Banerjee)নিয়ে কাজ করতাম, তাঁরা ছিলেন মানবিক।’ শুক্রবার ছাত্র-যুব প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই পাল্টা প্রশ্ন উঠছে—দীর্ঘ ১৫ বছর রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী থাকার সময় তাহলে পুলিশের কার্যকলাপ কার নির্দেশে চলত?

মমতার পুলিশ(Mamata Banerjee)
বিরোধীদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ শাসনকালে পুলিশকে কার্যত রাজনৈতিক নির্দেশের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সরকারবিরোধী আন্দোলন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ—একাধিক ক্ষেত্রে পুলিশকে বিরোধী কণ্ঠ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ বিরোধীদের। অন্যদিকে, শাসকঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি কিংবা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠলেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় থেকেছে বলেও বারবার সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।

শাহজাহান শেখ, জাহাঙ্গীর এবং সওকত মোল্লার মতো নেতাদের রাজনৈতিক উত্থানের ক্ষেত্রেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মথাবাড়ির মতো ঘটনায়, যেখানে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল, সেখানেও পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। আবার আরজি করের ঘটনার পর চিকিৎসকদের দীর্ঘ আন্দোলনে পুলিশের সক্রিয়তা কিংবা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নামলে আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ—এই দুই ধরনের ঘটনাকে সামনে রেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, কোথাও পুলিশ ছিল ‘নিষ্ক্রিয়’, আবার কোথাও ‘অতিরিক্ত সক্রিয়’। ফলে ‘রক্ষকই ভক্ষক’—এই তকমাও জুটেছে পুলিশের কপালে।
আরও খবর
আইনের শাসন(Mamata Banerjee)
কিন্তু সরকার বদলের পর পুলিশের ভূমিকার এই ছবিটাই কি বদলেছে? বর্তমান সরকারের দাবি, পুলিশকে এবার রাজনৈতিক নির্দেশের পরিবর্তে আইন অনুযায়ী কাজ করার পূর্ণ পরিসর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দুর্নীতি, তোলাবাজি, অপরাধ কিংবা যে কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ রয়েছে। জনপ্রতিনিধি থেকে পুলিশ আধিকারিক—অভিযোগের ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় না দেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
ফলে নতুন সরকারের তিন মাসের সময়কালে পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, একই পুলিশ, বদলেছে শুধু সরকারের নির্দেশিকা? যে পুলিশকে মমতার আমলে ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বলে কটাক্ষ করা হত, সেই পুলিশই কি এখন নিজের কর্তব্য ও আইনি এক্তিয়ার অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে?
মমতার প্রশ্ন(Mamata Banerjee)
তাহলে মমতার প্রশ্নের পাল্টা প্রশ্নও উঠছে—‘এই পুলিশকে আমি চিনি না’ বলার কারণ কি পুলিশ বদলে যাওয়া, নাকি পুলিশের কাজের ধরন বদলে যাওয়া? ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ‘শাসকঘেঁষা পুলিশ’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পুলিশ কার্যত সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছে—এমন অভিযোগও বারবার সামনে এসেছে। তবে নতুন সরকারের আমলে পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। পুলিশ কি সত্যিই সরকারের অঙ্গুলিহেলন ছাড়াই আইন অনুযায়ী নিজের কর্তব্য স্বাধীন ও সক্রিয়ভাবে পালন করতে সক্ষম হচ্ছে, নাকি শুধু সরকারের নির্দেশের ধরন বদলেছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলে।



