Trinamool Congress
Trinamool Congress

TMC internal clash: দলের মধ্যেই রণক্ষেত্র! বরাহনগরে তৃণমূল কর্মীর হাতে তৃণমূল কর্মী মার, ভোটের আগে বড় প্রশ্ন

Bengal Liberty Desk, Kolkata:

ভোটের আগে ফের অস্বস্তিতে শাসকদল (TMC internal clash)। সাধারণ মানুষের সুরক্ষা যেখানে বড় প্রশ্ন, সেখানে নিজেদের দলেই কি নিরাপত্তা নেই? বরাহনগরের আলমবাজারে প্রকাশ্যে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে কার্যত সেই প্রশ্নই আরও জোরালো হচ্ছে।

TMC internal clash
TMC internal clash

কী ঘটেছে

ঘটনাটি ঘটেছে বরাহনগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আলমবাজার বিএসএফ ক্যাম্প এলাকায়। অভিযোগ, ছোট্টু মোহলি নামে এক তৃণমূল কর্মী দলীয় প্রার্থীর পতাকা লাগানোর কাজ করছিলেন। সেই সময় তৃণমূল নেতা পুলক ঘোষের অনুগামীরা তাঁকে এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে জোর করে আলমবাজারের একটি ক্লাবঘরে ঢুকিয়ে বাঁশ, রড এমনকি আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে বেধড়ক মারধর করা হয়।

TMC internal clash
TMC internal clash

আড়ালে কী কারণ?

স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, এর পেছনে রয়েছে প্রভাব বিস্তার ও অর্থের দ্বন্দ্ব।
অভিযোগ, ছোট্টু মোহলির ব্যবসা থেকে টাকা ভাগ চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, পুলক ঘোষ চাইতেন ছোট্টু মোহলি তাঁর অনুগামী হয়ে কাজ করুক। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হননি মোহলি। বরং তিনি স্থানীয় কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। আর এই ‘অনুগামী রাজনীতি’র লড়াই থেকেই চরম আকার নেয় এই সংঘাত।

অভিযোগ, সেই ক্ষোভেই ছোট্টু মোহলিকে বাড়ি থেকে তুলে এনে ক্লাবের ভিতরে ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। অর্থাৎ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয় দলের ভিতরে আধিপত্য কায়েমের লড়াইই যেন রূপ নিয়েছে খোলাখুলি হিংসায়।

দলের ভেতরের গোষ্ঠী কোন্দল

এই ঘটনায় আরও একবার সামনে এল তৃণমূলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। একদিকে স্থানীয় কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আক্রান্ত, অন্যদিকে আরেক গোষ্ঠীর প্রভাবশালী নেতা এই সংঘাত কার্যত প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে— যারা নিজেদের দলীয় কর্মীকেই রেহাই দেয় না, তারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে? এবং ভোটের আগে এই ধরনের অশান্তি কি প্রভাব ফেলবে নির্বাচনের ফলাফলে?

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা

ছোট্টু মোহলির অনুগামী রবি মোহলির কথায়, “আমরা তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলাম। আমাদের সেক্রেটারি নিজেই বলেছিলেন বাড়ি যেতে। এরপর রাত সাড়ে এগারোটার সময় ফোন আসে ওনাকে ক্লাবে ঢুকিয়ে পুলক মারছে। মিটার ঘর নিয়ে বহুদিনের ঝামেলা ছিল। আমরা তৃণমূল করেও আজ তৃণমূলের হাতেই মার খাচ্ছি।” এই বক্তব্যই প্রমাণ করছে, গোষ্ঠী কোন্দল কতটা গভীরে গিয়েছে।

কী বলছেন অভিযুক্ত?

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন পুলক ঘোষ। তাঁর দাবি, “এমন কিছুই হয়নি। বরং ছোট্টু মোহলির বিরুদ্ধেই অন্য কাউকে মারার অভিযোগ এসেছে। আমি ঈদ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ওকে তৃণমূল করতে দেখিনি। কোথাও মদ খেয়ে মারামারি করেছে, আমি আর কী বলব!”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ভোটের মুখে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা শাসকদলের জন্য। বিরোধীদের মতে, এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলেরই প্রতিফলন। একই দলের দুই কর্মীর মধ্যে এমন হিংসাত্মক সংঘর্ষ শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অভাবই নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তোলে। যেখানে দল নিজের ঘর সামলাতে ব্যর্থ, সেখানে রাজ্যের মানুষ কতটা নিরাপদ সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury