election rallies
Bengal Liberty, কলকাতা:
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত পারদ চড়ছে election rallies। প্রথম দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, প্রচারের তীব্রতা ততই বাড়ছে। মঙ্গলবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারের ময়দানে নামছেন তিন দলের তিন হেভিওয়েট নেতা—কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, বিজেপির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে একাধিক জেলায় এই শীর্ষ নেতাদের জোরালো প্রচার ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে।

রাহুলের নিশানায় উত্তরবঙ্গ ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক: election rallies
মঙ্গলবার রাজ্যে রাহুল গান্ধীর তিনটি জনসভা করার কথা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্তের সমর্থনে সভার মধ্য দিয়ে তাঁর দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর মালদহের চাঁচল এবং মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে পর পর দুটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। দলীয় সূত্রে খবর, দুপুর তিনটে নাগাদ মুর্শিদাবাদের সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গ ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করাই তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

শাহের মেগা রোড-শো ও সভা, নজরে রায়গঞ্জ:
একই দিনে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় বর্ণাঢ্য রোড-শো করবেন অমিত শাহ। ঘটনাক্রমে, একই অঞ্চলে রাহুল গান্ধীর সভার দিনেই শাহের এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা চরমে। তাঁকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দু’ধারে একাধিক মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় আশা করছে গেরুয়া শিবির।
একই এলাকায় দুই বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতার উপস্থিতির কারণে প্রশাসনকেও কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই রোড-শোয়ের পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর এবং মালদহের মানিকচক ও গাজোলেও জনসভা করবেন অমিত শাহ। উত্তরবঙ্গ এবং মালদহ-মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে পদ্ম-শিবিরের প্রভাব বিস্তারের যে কৌশল, এই মেগা প্রচার তারই অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মমতার ম্যারাথন প্রচার, লক্ষ্য জঙ্গলমহল থেকে শিল্পাঞ্চল:
মঙ্গলবার দিনভর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর প্রথম গন্তব্য পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা। জঙ্গলমহলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে এই সভাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এরপর পূর্ব মেদিনীপুরে, বিরোধী দলনেতার খাসতালুকে জনসভা করবেন তৃণমূল নেত্রী। পাশাপাশি, হাওড়ার ডোমজুড়েও তাঁর একটি নির্বাচনী জনসভা করার কথা রয়েছে। শিল্পাঞ্চল ও শহরতলির ভোটারদের মন জয় করতেই এই সভার আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, তিন জেলায় দিনভর ম্যারাথন প্রচারের মাধ্যমে কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মেগা পাওয়ার শো:
একই দিনে তিন শীর্ষ নেতার এই রাজনৈতিক কর্মসূচি বাংলার নির্বাচন-পূর্ব আবহকে কার্যত একটি ‘মেগা পাওয়ার শো’-তে পরিণত করেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সর্বত্রই শক্তিবৃদ্ধি ও জনসমর্থন আদায়ে মরিয়া রাজনৈতিক দলগুলি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হাইভোল্টেজ প্রচার শুধুমাত্র দলীয় কর্মীদেরই উজ্জীবিত করে না, বরং সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তেও বড়সড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যে সমস্ত কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা, সেখানে এই প্রচারগুলি নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।
রাহুলের ত্রিস্তরীয় সভা, শাহের রোড-শো ও জনসভা এবং মমতার ম্যারাথন প্রচার—সব মিলিয়ে মঙ্গলবার রাজ্যের রাজনীতির ময়দান কার্যত ‘হাইভোল্টেজ’। প্রচারের এই ঝড় ব্যালট বাক্সে বা ইভিএম-এ কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই কৌতূহলী নজর রাজনৈতিক মহলের।

