chorok 2026
Bengal liberty desk, কলকাতা:
আজ ১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার chorok 2026। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ চৈত্র সংক্রান্তি অর্থাৎ বাংলা বছরের শেষ দিন। আর চৈত্র সংক্রান্তি মানেই গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে শিবের গাজন আর হাড়হিম করা চড়ক পুজোর ঐতিহ্য। বছরের শেষ দিন পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণের এক প্রাচীন লোক-উৎসব হলো এই চড়ক।

চড়ক পুজোর ইতিহাস ও পৌরাণিক কথা chorok 2026
চড়ক পুজোর সঠিক ইতিহাস নিয়ে নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন, মহাদেবের উপাসক বাণরাজা ,শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে যুদ্ধে অমরত্ব লাভের জন্য নিজের রক্ত দিয়ে শিবকে তুষ্ট করেছিলেন। সেই থেকেই চৈত্র সংক্রান্তিতে এই কঠোর সাধনার শুরু। আবার ইতিহাস অনুযায়ী, ১৪৮৫ সালে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামে এক রাজা এই পুজোর প্রচলন করেন। তবে রাজা-জমিদারদের চেয়েও এই পুজো বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রাণের উৎসব হিসেবেই বেশি পরিচিত।

ভক্তদের হাড়হিম করা কঠোর ব্রত :
চড়ক পুজোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো দৈহিক যন্ত্রণা সহ্য করে ঈশ্বরকে তুষ্ট করা। যাকে কেন্দ্র করে এই উৎসব, সেই ‘চড়ক গাছ’ (একটি বিশাল কাঠের স্তম্ভ) পুজোর আগে পুকুর থেকে তোলা হয়। উৎসবের দিন গাজন সন্ন্যাসীরা পিঠে বড়শি গেঁথে সেই চড়ক গাছে ঝুলে দ্রুতবেগে ঘুরতে থাকেন। যদিও বর্তমানে পিঠে লোহার বড়শি গাঁথার চেয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার নিয়মই বেশি দেখা যায়। এ ছাড়াও জ্বলন্ত কয়লার ওপর দিয়ে হাঁটা, কাঁটা বা ছুরির ওপর লাফানো এবং শরীর বাণবিদ্ধ করে নৃত্য করার মতো কঠিন সব আচার পালন করেন সন্ন্যাসীরা।
সামাজিক বিপ্লবের এক রূপ:
চড়ক পুজোর একটি বিশেষ দিক হলো এর সামাজিক গুরুত্ব। প্রচলিত হিন্দু পুজোর মতো এখানে উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণের প্রাধান্য নেই। বরং সমাজের তথাকথিত ‘নিচু’ সম্প্রদায়ের মানুষরাই এই পুজোর মূল কাণ্ডারি এবং সন্ন্যাসী। তাই একে ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির বিপরীতে একটি বড় সামাজিক বিপ্লব হিসেবেও দেখা হয়।
চৈত্র সংক্রান্তির অন্যান্য আচার:
এদিন গ্রামবাংলায় শুধু চড়ক নয়, পালিত হয় আরও অনেক ঐতিহ্য। যেমন- শাকান্ন উৎসব, চৈত্র সংক্রান্তিতে ১৪ রকমের শাক তুলে রান্না করে খাওয়ার পুরনো রীতি আজও বাংলার বহু ঘরে টিকে আছে। এছাড়াও আছে, গাজন মেলা, চড়ক উপলক্ষে গ্রামগঞ্জে বসে রঙিন মেলা, যা চলে নববর্ষের প্রথম দু-তিন দিন পর্যন্ত।
বছরের শেষ দিনে এই কঠোর সাধনার মাধ্যমে ভক্তরা বিগত বছরের সমস্ত গ্লানি মুছে নতুন বছরকে আশীর্বাদের সঙ্গে স্বাগত জানানোর প্রার্থনা করেন।
