Ujjwal Mukhejee Abp Ananda
Bengal Liberty :
সিপেমূল বলে একটা শব্দ বর্তমান রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত (Ujjwal Mukhejee Abp Ananda)। এর অর্থ, সিপিএম এবং তৃণমূলের গোপন আঁতাত। এই ধরনের বামপন্থীদের একটাই লক্ষ্য, বিজেপির বিরোধিতা করতে গিয়ে যদি তৃণমূলের হাত ধরতে হয়, তবে সেটাই সঠিক। বলা বাহুল্য, গতকাল সোনারপুরে সেই সংশোধনবাদী ঝোঁকটাই নজরে পড়ল বাংলার সাংবাদিকদের। কীভাবে? আসুন আলোচনা করা যাক!

অভিষেক ভক্ত বামপন্থী সাংবাদিক Ujjwal Mukhejee Abp Ananda
সোনারপুরে অভিষেক যখন আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন নিজেকে ‘ঢাল’ বানিয়ে ভাইপোকে রক্ষা করতে সামান্যতম সময় অপচয় করলেন না ABP আনন্দের সাংবাদিক উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়। প্রবীণ সাংবাদিকের এমন ভূমিকা দেখে খুশি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। নাম না-করে পিসিমণি মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা করে বসেন উজ্জ্বলবাবুর। এরপর থেকে সমাজ মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে নিয়ে পোস্ট শুরু হয়। কলকাতা প্রেসক্লাবের সদস্য সুমন গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি কংগ্রেস করেন, উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে স্যালুট জানান। এখানে হয়তো সবটা স্বাভাবিক থাকত। কিন্তু, দুপুরের পর দেবাংশু ভট্টাচার্যর ফেসবুক পোস্ট তৃণমূলের সঙ্গে বামপন্থী সাংবাদিক উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক আরও স্পষ্ট করে দেয়। দেবাংশু সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে লিখছেন, ‘আপনার সাথে হয়ত বার দুয়েক আলাপ হয়েছে। আপনার রাজনৈতিক আদর্শ বোধও আমি বুঝতে পেরেছি আপনার সাথে আলাপচারিতায়.. কিন্তু আপনি যে সকলের মাঝে ব্যতিক্রম, তা এই পুঁজির হাতে বিকিয়ে যাওয়া সমাজ ও সিস্টেমের মাঝে আরও একবার প্রমাণ করলেন।

পেশাগত পরিচিতির আগেও আমরা প্রত্যেকে একেক জন মানুষ; আজকের সমাজে এই সহজ সরল সত্যটা আমরা অনেকেই ভুলতে বসি। আপনি হয়তো ব্যক্তি জীবনে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক নন, কিন্তু তারপরেও একটা গণতন্ত্র হরণের পরিবেশে ভাতৃতুল্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপনি যেভাবে বড় বড় ইট-পাথরের আঘাত থেকে নিজেকে এগিয়ে দিয়ে রক্ষা করলেন, তা আগামীর সাংবাদিকতার ছাত্রদের পাঠ্যবইতে স্থান হওয়া উচিত। প্রণাম নেবেন উজ্জ্বলদা। ভালো থাকবেন। পচতে বসা গণতন্ত্রের স্তম্ভে দাঁড়িয়ে আপনি হীরের মতই উজ্জ্বল হয়ে থাকুন।’ (বানান এবং লেখা অপরিবর্তিত)

যদিও মাস কয়েক আগে এই সাংবাদিককে বাবুল সুপ্রিয় বিধানসভায় অপমান করেছিলেন। শাসকদলের জোর খাটিয়ে কড়া প্রশ্নের উত্তর দিতে না-পারায় ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করা হয়েছিল সাংবাদিককে। যা সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্য। বাবুল সুপ্রিয়র ফেসবুক পেজে উজ্জ্বল মুখার্জিকে কটাক্ষ করে লেখা পোস্টটিও এখনও রয়েছে। দেবাংশু পোস্টের কমেন্টে প্রিম মিশ্র লিখছেন, ‘এই উজ্জ্বলবাবুকে বাবুল সুপ্রিয় কি অপমানটা করেছিলেন, আজ বাবুল নেই, কিন্তু উজ্জ্বল আছেন।’
সম্ভবত, উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব যোগাযোগ করেছেন। গোটা বিষয়টা রাজ্য সরকারের একাধিক কর্তারও গোচরে রয়েছে বলে খবর।
ABP আনন্দের আরেক সাংবাদিক আশাবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্রান্ত খবর সংগ্রহ করেছেন। ২০১১ থেকে ২০২৬-এর মের ৪ তারিখ পর্যন্ত তিনি কার্যত মমতার সৈনিক হিসাবেই ভূমিকা পালন করেছেন। ফেসবুকে SIR নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। কবিতা লিখেছিলেন। কিন্তু, নিজেকে ঢাল বানিয়ে মমতার রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করার চেষ্টা আশাবুলবাবুর মধ্যে দেখা যায়নি। ফলে, আজ উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় যতটা নন্দিত, ততটাই নিন্দিত হচ্ছেন রাজনৈতিক এবং সাংবাদিক মহলে।

