durgapur rape case
Bengal Liberty: উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন বিরোধীদলনেতা। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী?
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাতের জেরে বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল সেখানকার মানুষেরা। বহু মানুষের মৃত্যুর খবর শোনা গিয়েছিল। সেই সময় দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে তড়িঘড়ি ছুটে গিয়েছিলেন বিরোধীদলনেতা। এতদিন পর মুখ্যমন্ত্রীর টনক নড়ল। ছুটলেন তিনিও ত্রাণ দিতে। স্বভাবসিদ্ধ মুখ্যমন্ত্রী এবারও ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে বেফাস মন্তব্য করে বিতর্ক উস্কে দিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুননির্মাণ করার জন্য না-কি তাঁর একটা রিভিউ মিটিং রয়েছে। গতকাল কলকাতা বিমান বন্দরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের তেমনটাই জানান তিনি। হাসিমারার পর আজ নগরকাটায় পৌঁছে যান তিনি।
অন্যদিকে, আবারও রাজ্যে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের মতো ঘটনা ঘটে গেল। সে নিয়ে কোনও হেলদোল নেই তাঁর। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। চলে গেলেন উত্তরবঙ্গের পরিদর্শনে। সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার হওয়া কোনও নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পরিবারকে দোষীর শ্বাস্তির আশ্বাস দেন নি তিনি। বরং গতকাল পরোক্ষভাবে ছাত্রীদের রাতে না-বেরানোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিলেন। এই নিয়ে কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাতে যদিও তাঁর ভ্রূক্ষেপ নেই। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বক্তব্য, ‘বেসরকারি হাসপাতালগুলির উচিত ভিন রাজ্য থেকে আসা পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। রাতে ছাত্র-ছাত্রীদের না বের হতে দেওয়া। বিশেষ করে ছাত্রীদের। পুলিশ তো আর বাড়িতে গিয়ে বসে থাকতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় যে, রাজ্য প্রশাসনের গাফিলতি আড়াল করতে মরিয়া তিনি। সেই কারণেই এই ঘটনার পুরো দায় ঠেলে দিলেন বেসরকারি ওই হাসপাতালের দিকে।

নির্যাতিতার পরিবাবের পাশে বিরোধী দলনেতা (Durgapur rape case)
তবে স্বস্তি রাজ্যের বিরোধীদল নেতা অন্তত নির্যাতিতার পরিবাবের পাশে দাঁড়ালেন। খোঁজ নিলেন তরুণীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে। বিরোধী দলনেতাকে নির্যাতিতার বাবা জানায়, এখনও অবধি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ফোন পাননি তাঁরা। ফোন মারফত নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গেও কথা বলে দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী জানান, তাঁকে হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখানে পড়তে আসা ওড়িশার একজন মেয়েকে সুরক্ষিত রাখতে পারলাম না। লজ্জিত আমরা। ক্ষমাপ্রার্থী।”
