Baduria Pradhan death
Bengal Liberty, ২ জুন: ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর সরকারি ময়লা ফেলার গাড়ি বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। আর সেই বিতর্কের মাঝেই উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম জাহিদুল হক বৈদ্য। তিনি বাদুড়িয়া বিধানসভার যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। আজ, মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঘর থেকে দেহটি উদ্ধার করে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
১২টি ব্যাটারিচালিত গাড়ি বিক্রির অভিযোগ ও গণবিক্ষোভ (Baduria Pradhan death)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ মে প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তাঁদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর ১২টি অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার গাড়ি বেআইনিভাবে বিক্রি করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রবিবার ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রধানের বাড়ির সামনে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান এবং তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর বাদুড়িয়া থানার পুলিশ প্রধানের বাড়িতে তদন্তে গেলেও সেই সময় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ও মানসিক অবসাদ (Baduria Pradhan death)
শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় বহু বিজেপি কর্মীর ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং তাঁদের এলাকা ছাড়া করার নেপথ্যেও এই প্রধানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্নীতির খতিয়ান সামনে আসতেই এবং গ্রামবাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মুখ খোলায় তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন জাহিদুল।
ঋণের বোঝা ও পারিবারিক অশান্তি (Baduria Pradhan death)
প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, দুর্নীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল ঋণের বোঝা ছিল ওই পঞ্চায়েত প্রধানের ঘাড়ে। বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া মোটা অঙ্কের টাকা তিনি পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এর পাশাপাশি তাঁর বৈবাহিক জীবনেও চরম অশান্তি চলছিল। আর্থিক অনটন, পারিবারিক বিবাদ এবং দুর্নীতির খাঁড়া— এই সব মিলিয়ে তিনি তীব্র মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ (Baduria Pradhan death)
আজ সকালে ঘর থেকে প্রধানের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দেহটি উদ্ধার করে প্রথমে রুদ্রপুর হাসপাতালে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক দুর্নীতি কাণ্ডে যেভাবে শাসকদলের নেতারা শ্রীঘরে যাচ্ছেন, সেই আবহে দুর্নীতির তালিকায় নাম জড়ানোর ভয়েই কি প্রধান আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে— তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

