Sovandeb Chattapadhay
Bengal Liberty:
বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattapadhay)। সর্বহারা হয়েও হার স্বীকারে নারাজ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি এবং সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে পৌঁছালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
তৃণমূল দলের বিভাজন হয়ে নব তৃণমূল গঠিত হয়েছে। ৫৮ জন বিধায়ক সহ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মান্যতা পেয়েছে। তবুও নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে দলনেত্রী মমতা। বিধানসভায় ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং তার সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

হাইকোর্টে মামলা দায়ের
বিধানসভায় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিভক্ত হয়েছে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আঙুল উঠেছে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর দিকে। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন দাবি করে নব তৃণমূল দলটি বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। সেই ভিত্তিতেই বিরোধী শিবির হিসেবে ঋতব্রতদেরই স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। কিন্তু মমতা নির্বাচিত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। কার্যত মামলাটির দ্বারা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণই ছিল মূল লক্ষ্য। কোন আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তিতে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হল এবং বৈধতা খুঁটিয়ে দেখার অভিযোগ জানিয়েছে প্রাক্তন শাসকদল।

বলাবাহুল্য, প্রাক্তন দলনেত্রী ও ঋতব্রতর মধ্যে বহুদিন ধরেই মনমালিন্য ছিল। বহিষ্কারের পরেই নতুন দল গঠন মানতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী মমতা। ক্ষমতা হারানোর পর কোন সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়নি। তাই বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
মামলাকারীদের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ” বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে মামলাটির দ্রুত শুনানি করা হোক।” বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে বিচারপতি জানিয়েছেন, ” আগামী ১১ জুন এই মামলার শুনানি হবে। এই সময়ের মধ্যে অন্য পক্ষকে নোটিস জারি করা হবে।”
ক্ষমতা হারিয়েও মানতে তীব্র আপত্তি তৃণমূল নেত্রী মমতার। অথচ বিধানসভার অন্দরে ঋতব্রতর নেতৃত্বে গঠিত নব তৃণমূল। নব তৃণমূল এবং প্রাক্তন শাসকলের মধ্যে এই সংঘাত কত দূর গড়ায় এবং কলকাতা হাইকোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে বর্তমানে নজর সকলের।

