PoK Protest
Bengal Liberty, ১১ জুন ২০২৬ : ফের উত্তপ্ত পাক-অধিকৃত কাশ্মীর; ফের রক্তাক্ত ভূস্বর্গ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এতে গত কয়েক দিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। যদিও প্রশাসনের দাবি, মৃতের সংখ্যা ১১। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন বিক্ষোভকারীরাও।
পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের চরম আর্থিক দুরবস্থা ও প্রশাসনিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদে সরব স্থানীয় নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)। সম্প্রতি প্রশাসন এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতেই বিক্ষোভের আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত(PoK Protest)
বিক্ষোভের সূত্রপাত রাওয়ালকোটে। সেখানে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর সময় নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে এক ব্যবসায়ী নিহত হন। এর পরই গত শুক্রবার জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের স্থানীয় প্রশাসন। তাদের দাবি, অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। পুলিশ জানায়, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত রবিবার একটি হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বেশ কিছু মানুষ। ওই মর্গেই রাখা ছিল পুলিশের গুলিতে নিহত অন্য এক প্রতিবাদীর মরদেহ।

এই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই বিক্ষোভে শামিল হন। পুলিশের বিরুদ্ধে ১১ জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
অঞ্চলের পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সর্দার ওয়াহিদ খান জানান, হাসপাতালের সামনের বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। তাতে ছয়জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের পাল্টা দাবি, বিক্ষোভকারীরাও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি এবং বোমা ছুড়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে সব মিলিয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭০ জন আহত হয়েছেন। তবে জেএএসি এবং বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশের গুলিতে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৩০ এবং আহত ২০০-রও বেশি।
পাক-অধিকৃত কাশ্মীর কি তবে অতীতের পথে? দশকের পর দশক ধরে চলা এই অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়ে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ কি অবশেষে নতুন সূর্যোদয় দেখবে—এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


