Swapan Dasgupta
Bengal Liberty:
বাজেট পেশের আগে উত্তরকন্যায় শিল্পমহলের সঙ্গে বৈঠক অর্থমন্ত্রীর, শিলিগুড়িতে জিএসটি ট্রাইব্যুনালের জোরালো দাবি , প্রথম সরকারের অর্থ মন্তকের এত কাছাকাছি কথা বলার সুযোগ পেয়ে খুশি শিল্পপতি থেকে ব্যাবসায়ী মহল , “ট্রেডমিলে দৌঁড়ে বাজেট নয়” মন্তব্য অর্থমন্ত্রীর

উত্তরকন্যায় প্রিবাজেট বৈঠকে শিল্পপতি
আগামী ২০ জুন রাজ্য সরকারের আট মাসের বাজেট পেশ হওয়ার কথা (Swapan Dasgupta)। তার আগে রাজ্যের বণিক ও শিল্পমহলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে তৎপর নতুন সরকার। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যায় রাজ্যের অর্থ দপ্তরের তরফে আয়োজিত হল প্রিবাজেট বৈঠক। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের শিল্প ও বণিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। কলকাতার পর এবার উত্তরবঙ্গের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এই আলোচনা সেরে আগামী সপ্তাহে দুর্গাপুরেও একই ধরনের বৈঠক করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠকে সিআইআই, ফোসিন, টি বোর্ড সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডোর-স্টেপ গভর্নেন্স বা দুয়ারে প্রশাসনিক পরিষেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিল্পের প্রতিনিধিদের কথায়, এই বৈঠক থেকে যে বার্তা পাওয়া গেল, তা আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে।
ব্যবসায়ী ও চা শিল্পের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত বলেন, “আমরা একটি ‘প্রো-বিজনেস’ ও ‘বিজনেস ফ্রেন্ডলি’ সরকার। ব্যবসা ও শিল্পের উন্নতি হলে অর্থনীতির সার্বিক উন্নতি হবে। আগে বাজেট তৈরি হত অনেকটা ট্রেডমিলের ওপর দৌঁড়ে। যা আমরা এবার করছি না। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্ত গোষ্ঠী ও মানুষের পরামর্শ শোনা আমাদের লক্ষ্য। সব সমস্যার সমাধান হয়তো রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে আমরা প্রতিটি দাবি ও প্রস্তাব মন দিয়ে শুনেছি।” তিনি আরও বলেন, “আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে যে বিবাদের পরিবেশ ছিল, তা কাটিয়ে উন্নয়নের জন্য সমন্বয় বজায় রাখা হবে। উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।”

এদিন শিল্পমহলের তরফে সবথেকে জোরালো দাবিটি উঠে এসেছে জিএসটি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে। বণিক ও শিল্পমহলের প্রতিনিধিদের দাবি, ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে শিলিগুড়িতে একটি ‘জিএসটি এপিলেট ট্রাইব্যুনাল’ গড়ে তোলা হোক। এতে কলকাতায় না গিয়ে শিলিগুড়িতেই জিএসটি সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।
ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি)-এর উত্তরবঙ্গ শাখার চেয়ারম্যান হর্ষ বরেলিয়া বলেন, “বাজেটের আগে এ ধরনের সরাসরি আলোচনা অভূতপূর্ব। জিএসটি ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি আমরা দার্জিলিং চায়ের মান ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিল্প স্থাপনে ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধার দাবি জানিয়েছি।” উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মেরুদণ্ড চা শিল্পের সংকট নিয়েও এদিন দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (উত্তরবঙ্গ)-র সম্পাদক সুমিত ঘোষ জানান, “সরকার যেভাবে বাজেট পেশের আগে চা শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করছে, তাতে তাঁরা অত্যন্ত আশাবাদী। চা বাগানগুলির লিজ সংক্রান্ত সমস্যা এবং ভর্তুকি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ও রুগ্ন চা বাগানগুলি পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের কাছে একটি বিশেষ প্যাকেজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।” অর্থমন্ত্রী অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাজেটে চা শিল্প নিয়ে একাধিক দাবি থাকলেও সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় তা কতটা জায়গা পাবে, তা দেখার বিষয়।

