Sribhumi club
Bengal Liberty:
সুরুচি সংঘের পর এবার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব (Sujit Basu)। উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী। খেলার মাঠ সংলগ্ন একটি ঘর থেকে বস্তা বস্তা কম্বল, ত্রিপল, শাড়ি, পোশাক, স্টোভ থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর মেলার প্রসাদ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে। গতকাল, রাজারহাট গোপালপুরের বিধায়িকা অদিতি মুন্সির কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছিল একাধিক ধারাল অস্ত্র, সাদা থান, মদের গ্লাস সহ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। আজ, শ্রীভূমির জাঁকজমকের আড়ালে উদ্ধার হয় অগাধ ত্রাণ সামগ্রী।
জনগণের কল্যাণে সরবরাহ করা সরকারি দ্রব্য চুরি ও বেআইনি ভাবে মজুত রাখা তৃণমূল নেতা মন্ত্রীদের অন্যতম ধারা ছিল। কমবেশি সকল কার্যালয় থেকেই উদ্ধার হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার সরকারি সম্পত্তি। রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে সকল কুকীর্তি ফাঁস হলেও সুজিত বসুর শ্রীভূমিকে কেন্দ্র করে বিপুল সরকারি ত্রাণ উদ্ধার হওয়া নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সরকারি ত্রাণ উদ্ধার ক্লাব থেকে
শুক্রবার বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীভূমি খেলার মাঠের একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় সরকারি ত্রাণের সামগ্রী। যার মধ্যে রয়েছে সরকারি ত্রিপল, কম্বল, শিশু ও প্রবীণদের পোশাক, আবর্জনা ফেলার বালতি, স্টোভ, সুতির শাড়ি এবং গঙ্গাসাগর মেলার প্রসাদ ও কলসি। স্থানীয়দের দাবি, এই সমস্ত সামগ্রী মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সেগুলি মানুষের হাতে পৌঁছানোর পরিবর্তে বছরের পর বছর ক্লাব সংলগ্ন ঘরে মজুত করে রাখা হয়। কার্যত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর নাম দীর্ঘদিন ধরেই জড়িত। বর্তমানে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তিনি ইডির হেফাজতে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ এবং ২০২৬ সালে গঙ্গাসাগর মেলার ভক্তদের জন্য বরাদ্দ প্রসাদও বিতরণ না করে বাক্সবন্দি অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়েছিল।
শ্রীভূমি নতুন নয়, একাধিক তৃণমূলের কার্যালয়ের অন্দরের গুপ্ত স্থান থেকে উদ্ধার হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার সরকারি সামগ্রী। বিগত বছর ধরে বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ মানুষ। পরবর্তী কোন বিধায়ক বা নেতার নাম সামনে আসে, সেটাই দেখার।


