baidyanath
Bengal Liberty:
এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতা-নেত্রীকে আইনি নোটিস পাঠালেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। তৃণমূল সুপ্রিমোর পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সৌগত রায় এবং প্রাক্তন বিধায়ক সোনালী গুহ।
বৈদ্যনাথের দাবি, এই পাঁচ হেভিওয়েট নেতা জনসমক্ষে ও সংবাদমাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। তাঁদের দাবি ছিল, বৈদ্যনাথ বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিট চেয়েছিলেন এবং তা না পাওয়ার কারণেই ড. কাকলি ঘোষ দস্তিদার রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।

মানহানির মামলা তৃণমূলের বিরুদ্ধে Kakoli Ghosh Dastidar
তৃণমূলের অন্দরে চলা এই টানাপোড়েনের আবহে সরাসরি আইনি নোটিস পাঠানোর ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। ডা. ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার পেশায় একজন উচ্চশিক্ষিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি কোনোদিন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি বা তাঁর কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও নেই। উলটে বারাসত জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন সভাপতি সোহম পালই বৈদ্যনাথকে বারাসত থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে এই চিকিৎসক জানান, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার বিয়েতে আমার স্ত্রীকে একটি সোনার নেকলেস এবং দুর্গাপূজার সময় আমাকে কুর্তা-পায়জামা উপহার দিয়েছিলেন। আন্তরিকতার সঙ্গেই তখন উপহারগুলো গ্রহণ করেছিলাম। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমি সেই সমস্ত উপহার ফিরিয়ে দিচ্ছি।”

আইনি নোটিস
আইনি নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ডা. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে করা সমস্ত মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই দাবি পূরণ না করা হলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীসহ বাকি নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নোটিস প্রসঙ্গে তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট নেতা-নেত্রীদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জল এখন কোন দিকে গড়ায়, সেটাই দেখার।


