World Cup 2026 racism
Bengal Liberty, ১৫ জুন ২০২৬ : গত ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬(World Cup 2026 racism) সালের ফিফা বিশ্বকাপ। ৪৮টি দল, তিনটি আয়োজক দেশ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর ম্যাচ বল—সব মিলিয়ে আগের যেকোনো আসরের চেয়ে এবারের বিশ্বকাপ অনেক বেশি ঐতিহাসিক। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, এই বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই নিত্যনতুন বিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে খেলা নিয়ে মানুষের আগ্রহ যেন কিছুটা কমে যাচ্ছে, আর মাঠের বাইরের বিতর্কই হয়ে উঠছে মূল আলোচনার বিষয়।

রেফারির আচরণ ঘিরে বিতর্ক(World Cup 2026 racism)
গত রবিবার জার্মানি বনাম কুরাসাও ম্যাচে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে জার্মান বাহিনী। তবে এই ম্যাচে রেফারির বর্ণবিদ্বেষী ও নাৎসি ভাবভঙ্গির কারণে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। ম্যাচটিতে ‘ভিএআর’ (VAR) পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ অফিশিয়াল শন ইভান্স। অভিযোগ উঠেছে, ম্যাচের আগে তিনি হাতের সাহায্যে একটি বিতর্কিত ও বর্ণবিদ্বেষী অঙ্গভঙ্গি করেন। এর পরপরই ‘ফেয়ার নেটওয়ার্ক’ নামের একটি সংস্থার পক্ষ থেকে শনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলা হয়।


সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই বিশেষ অঙ্গভঙ্গি আসলে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যকে বোঝায়। নব্য-নাৎসিবাদের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই বিশেষ ভঙ্গি। তাই আমরা মনে করি, এই বিশ্বকাপে এমন রেফারির আর কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়।”
কিংবা ফিফা—কোনো পক্ষই এখনো মুখ খোলেনি।
দুই রেফারির ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান(World Cup 2026 racism)
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি ওমর আবদুলকাদির আর্তানকে রাজনৈতিক কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের প্রশ্ন—ওমরের সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হতে পারে, তবে বর্ণবিদ্বেষী ইঙ্গিত করার পরও কেন শন ইভান্সকে এখনো বহাল তবিয়তে কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে?


এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই ফুটবলবিশ্ব দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে গেছে। কেউ কেউ শনের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিষয়টিকে ‘মজার ছলে করা ইয়ার্কি’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন; আবার বিরোধীরা কড়া ভাষায় এর সমালোচনা করছেন। সব মিলিয়ে, মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে এখন ফুটবল-বহির্ভূত এই পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা তুঙ্গে।


