Moscow Black Rain
Bengal Liberty, ১৯ জুন ২০২৬ : ইউক্রেনের ড্রোন(Moscow Black Rain) হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ‘কালো বৃষ্টি’ বা তৈলাক্ত কালো কণা মিশ্রিত বৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার মেঘ দেখা যাওয়ার পর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৫৭৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মস্কোর কাপোতন্যা এলাকার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জেরে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলার পর শোধনাগার এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন ‘কালো বৃষ্টি’র অভিযোগকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও পরে বাসিন্দাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানলা-দরজা বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিও(Moscow Black Rain)
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তেল শোধনাগারে আগুন লাগার পর মস্কোর আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। কিছু ভিডিওতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৃষ্টির সঙ্গে কালচে তৈলাক্ত কণা বা অবশেষ মাটিতে পড়ছে। যদিও এসব ভিডিওর সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাশিয়ার দাবি – ” হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৫৫৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এর মধ্যে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় প্রতিহত করা হয়। তবে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন স্বীকার করেছেন যে কয়েকটি ড্রোন মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। একটি বিপণিবিতানও সামান্য ক্ষতির মুখে পড়েছে “।
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে জেলেনস্কি(Moscow Black Rain)
সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানে তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেন। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। তবে মস্কোর তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক হামলার পর রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয় এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কতটা বাড়ে, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।



