Gopal Mukherjee Road
Bengal Liberty:
গতকাল ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভ মুহূর্তে সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ-এর নাম বদল হয়ে নতুন নাম হল গোপাল মুখার্জী রোড (Gopal Patha)। রাস্তাটির নাম হল স্বর্গীয় গোপাল মুখার্জী ওরফে ‘গোপাল পাঁঠা’র নামানুসারে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের গৃহীত এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আন্তরিক ভাবে সাধুবাদ জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সেই গোপাল মুখার্জীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে এমন এক ব্যক্তির নাম বহন করা হয়েছে, যাঁর ভূমিকা বিভাজন ও রক্তক্ষয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। আজ সেই অধ্যায়ের সংশোধন করে সাহস, আত্মত্যাগ ও রক্ষকের প্রতীক শ্রী গোপাল মুখার্জী’কে যথাযোগ্য সম্মান জানানো হলো। এখন সময় পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত নায়কদের স্মরণ করার, তাঁদের অবদানকে মর্যাদা দেওয়ার এবং ইতিহাসের ভুলগুলো সংশোধন করার।”
.
I commend the historic decision taken by the Kolkata Municipal Corporation, yesterday, on the solemn occasion of Paschimbanga Divas, which would be instrumental in rectifying a historical wrong.
Suhrawardy Avenue will now be renamed as Gopal Mukherjee Road.For decades, a major… pic.twitter.com/eUmZj1msE9
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) June 21, 2026
গোপাল পাঁঠার ইতিহাস Gopal Patha
১৬ অগাস্ট, গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংসের বার্ষিকী। ১৯৪৬ সালের এই দিনে মুসলিম লিগের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’-র ডাকের পর কলকাতাজুড়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, যা চার দিন ধরে চলেছিল। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই হিংসায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস এই ঘটনাকে বাংলার ‘ভাগের দাঙ্গা’-র সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সুরাবর্দি। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলিম লিগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষিত যুবক, ছাত্রসমাজ ও মধ্যবিত্তদের একাংশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। কলকাতার এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায় পরবর্তীতে নোয়াখালির সাম্প্রদায়িক অশান্তির পূর্বাভাস হিসেবেও বিবেচিত হয়।

১৯৪৬ সালে মুসলিম লিগের নেতৃত্বে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ শুরু হলে রুখে দাঁড়ান গোপাল মুখোপাধ্যায় ও তাঁর ভারতীয় জাতীয় বাহিনী। মূলত একার হাতেই সেদিন কলকাতাকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি। প্রবাদ হয়ে গিয়েছে গোপাল ছিলেন বলে টালা ট্যাঙ্ক আছে, শিয়ালদা স্টেশন আছে, আপনি, আমি রয়েছি। আর সেই প্রবাদের সঙ্গে জড়িয়ে আজও রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উল্টোদিকে এক চিলতে মাংসের দোকান। ১৯৪৭ সালের গ্রেট ক্যলকাটা কিলিংয়ের খলনায়ক হোসেন সুরাবর্দির নামে রাস্তার নামবদল করা হল গোপাল পাঁঠার নামে। পাঁঠার মাংসের দোকানের কারণে তিনি তাঁর নামের সঙ্গে পাঁঠা শব্দটি জুড়ে যায়।
নেতাজি ভক্ত গোপাল মুখার্জী
গোপাল মুখোপাধ্যায় ছিলেন নেতাজির ভক্ত ৷ সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে প্রতিবছর তিনি ভারতমাতার পুজো করতেন ৷ এখন যে ধরনের মূর্তি পুজো হয়, তার সঙ্গে কোনও মিল ছিল না গোপাল পাঁঠার পূজিত ভারতমাতার ৷ 23 জানুয়ারি শুরু হতো পুজো, চলত সাতদিন ধরে ৷ সেই মূর্তির রূপ ছিল এরকম, ভারতমাতার দু’হাত শৃঙ্খলে আবদ্ধ, তাঁর হাতে থাকা তরোয়াল, সামনে সামরিক পোশাকে হাঁটু মুড়ে বসে সেটা গ্রহণ করছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ৷ হতো বর্ণাঢ্য পদযাত্রা ৷ সেই পদযাত্রা শুরু হতো এই সাইরেন বাজিয়ে ৷ আরেকটি হ্যান্ড সাইরেন বাজাতে-বাজাতে নিয়ে যাওয়া হতো ৷ ঐতিহ্য বজায় রেখে সেই সাইরেন এখনও বাজানো হয় ৷

নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে সাতদিন ব্যাপি ভারতমাতার পুজোর সূচনা করতেন গোপাল মুখোপাধ্যায় ওরফে গোপাল পাঁঠা ৷ বর্তমানে সেই পুজো চারদিন ব্যাপি হয় ৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের সাইরেন সচল রেখেছে ‘গোপাল পাঁঠা’র পরিবার, বাজানো হয় নেতাজি জয়ন্তীতে। বিগত 80 বছর ধরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে বাজানো হয় এই সাইরেনটি ৷ এই সাইরেনের রক্ষণাবেক্ষণ যাঁরা করেন, তাঁরা কলকাতা শহরের বিখ্যাত পরিবার ৷ গোপাল মুখোপাধ্যায় ওরফে গোপাল পাঁঠার পরিবার ৷ বিপ্লবী অনুকূলচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভাইপো ছিলেন তিনি ৷ 1946 সালের 16 অগস্ট হওয়া ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর সময় শহরের হিন্দুদের বাঁচাতে নিজের কুস্তির আখড়ার ছেলেদের নিয়ে বাহিনী গঠন করেছিলেন ৷ হিন্দুদের প্রাণ বাঁচাতে ও মহিলাদের সম্মানরক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন গোপাল পাঁঠা এবং তাঁর আটশো জনের বাহিনী ৷
বদল রাস্তার নামকরণ
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভক্ষণে সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জী রোড’ রাখা হয়েছে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই নামকরণ পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এক ব্যক্তিত্বকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের উদ্যোগ।


