Mahua Moitra
Bengal Liberty:
তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে ঘিরে তৃণমূল ও এনসিপিআইয়ের সংঘাত আরও তীব্র হল (Mahua Moitra)। বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায়। সংবাদমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য এবং সোশাল মিডিয়ায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তোলার জেরেই মহুয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠোকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিক্ষুব্ধ শিবির।

তুমুল মতবিরোধ দুই শিবিরে Mahua Moitra
সূত্রের খবর, শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল লোকসভার স্পিকারের কাছে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানায়। পরে মহুয়া বলেন, “মানুষ আমাকে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দিয়েছে। ২০ জন সাংসদ নিজেরাই এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। আইন অনুযায়ী তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত।” মহুয়ার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দল ছেড়ে যারা অন্য দলে গিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করা হবে।

আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত
অন্যদিকে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “আমরা মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ করার বিষয়ে প্ল্যান করছি। আপাতত এটুকুই বলতে পারব।” কৃষ্ণনগরের সাংসদের লাগাতার আক্রমণাত্মক বয়ানের বিরুদ্ধে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক সারেন দলত্যাগী শিবির। কাকলি ঘোষ দস্তিদার , শতাব্দী রায় সহ বাকি সাংসদ যোগদান করে বৈঠকে। আক্রমণাত্মক সুরে মহুয়া লিখেছিলেন, “মাত্র ১৫ কোটি? এত সস্তায় কেন যাচ্ছেন? আমার বিশ্বাস, আমাদের সাংসদেরা চার কোটি টাকা করে অগ্রিম নিয়েছেন। বাকি ৩৬ মাসের জন্য এক কোটি করে নিচ্ছেন।” তৃণমূল ঘনিষ্ঠ মহুয়ার এই বক্তব্যে আইনি পথে হাটতে চলেছে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদর।
সাংসদ শতাব্দী বলেন, “প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করছেন মহুয়া। হিরানন্দানি ইস্যুতে কী হয়েছিল, তা দেশবাসী দেখেছে।” একইসঙ্গে এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও মহুয়ার মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে দুই শিবিরের এই সংঘাত রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন জল্পনা সৃষ্টি করেছে।


