Sajal Ghosh
Bengal Liberty:
বিধানসভায় বরানগরের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার দুরবস্থা, রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির সংকট নিয়ে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। বক্তব্যের মাঝেই প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে সজল বলেন, “কালীঘাট তৃণমূল আর নিমতলা তৃণমূলকে আলাদা করে তাদের সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করলে এক সপ্তাহেই রাজ্যের লক্ষ কোটি টাকার দেনা শোধ হয়ে যাবে।”
সম্প্রতি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার মধ্যেই এই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, শাসকদলের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বহু তথ্য সামনে আসবে।

সাগর দত্ত হাসপাতাল নিয়ে ক্ষোভ
বরানগরের সাগর দত্ত হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন সজল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের প্রবেশদ্বারের বাহ্যিক চাকচিক্য থাকলেও ভিতরে স্বাস্থ্য পরিষেবার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।
বিধায়কের দাবি, হাসপাতালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ কার্যত অচল। পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা নেই, সিটি স্ক্যান ও এমআরআইয়ের মতো জরুরি পরীক্ষারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তিনি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।

সরকারি স্কুল পুনরুজ্জীবনের দাবি
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সজল ঘোষ। তিনি বলেন, একদিকে সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে সেগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানান তিনি।
দুর্নীতির তদন্তের দাবি
পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক আমল পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সজল ঘোষ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাঁর কথায়, “মা-মাটি-মানুষের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা মা-মাটি-মানুষকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”
সজল ঘোষের ‘কালীঘাট’ ও ‘নিমতলা’ মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


