CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty : “একটি সরকার ভাঙার কারিগর, আর অন্য সরকার ভাঙন প্রতিরোধের!”-বিধানসভায় দাঁড়িয়ে দুই সরকারের এভাবেই তুলনা টানলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বুধবার দুপুরে মাঝেরহাট ব্রিজ সংলগ্ন ট্রান্সপোর্ট ডিপোর কাছে নির্মাণাধীন গোডাউনের ছাদ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পরে। তারাতলা পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও চলছে উদ্ধার কাজ। ঘটনার পর থেকেই মনিটরিং করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবারই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারপিছু ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। তারপরই মমতার সরকারের সঙ্গে বিজেপি সরকারের পার্থক্য বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)।

শুভেন্দু বনাম মমতা (CM Suvendu Adhikari)
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তারাতলার ঘটনাকে পূর্বতন সরকারের ‘পাপের ফল’ আখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও আধুনিক যন্ত্র কেনা হয়নি। পর্যাপ্ত উন্নত সরঞ্জাম না থাকায় উদ্ধার কাজে নিযুক্ত বাহিনীকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে গার্ডেনরিচের ছাদ ধসের ঘটনাও তুলে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই ঘটনার তুলনা দিয়ে তৃণমূল সরকারের গাফিলতির খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, “গার্ডেনরিচে ১৪ জন মারা গিয়েছিল। কাউকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেননি আপনারা। এনডিআরএফ এবং সেনাকে এতদিন ঢুকতেই দেননি। ভারী বিম কাটার মেশিন রাখেনি আগের সরকার। আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। কোনও পেশাদার টিম নেই। কেন রাজ্যের এই সর্বনাশ করে গিয়েছেন আপনারা? লোহা কাটার মেশিন ১৫ বছরে বদলানো হয়নি। বিহার রেজিমেন্ট উন্নত যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করেছে।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের গাফিলতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
পাশাপশি তিনি এও বলেন, বিজেপি সরকার বিধানসভার অধিবেশনকে গুরুত্ব দিয়ে জানে। পূর্বতন সরকারের মতো অধিবেশ চলাকালীন বাইরে বেরিয়ে ‘খিঁচ মেরি ফটো’ করে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, অধিবেশনের মর্যাদা রক্ষা করেই আজ বিধানসভায় সমস্ত তথ্য পেশ করে পুরো পশ্চিমবঙ্গবাসীকে প্রকৃত সত্য জানানো হল।



