Sarbari Mukherjee
Bengal Liberty: বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাট্যচর্চাকে বিশ্বমানের করে তুলতে এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক শিল্পীদের সুযোগ বাড়াতে বিধানসভায় একগুচ্ছ গঠনমূলক প্রস্তাব রাখলেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি। বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি কলকাতায় অবিলম্বে ‘ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা’ (NSD)-র একটি শাখা খোলার দাবি জানান।
যাদবপুরে শিক্ষা ক্যাম্পাস গড়ার প্রস্তাব (Sarbari Mukherjee)
বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি তাঁর নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা যাদবপুরে এনএসডি-র এই শাখাটি প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, যাদবপুরে প্রচুর সরকারি জমি রয়েছে, যেখানে অনায়াসেই একটি বড় শিক্ষা ক্যাম্পাস গড়ে তোলা সম্ভব। বিধায়কের মতে, ওই জমিকে যদি একটি আধুনিক ‘এডুকেশন হাব’ বা শিক্ষা ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে যাদবপুর তথা সমগ্র রাজ্যের নাম বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল হবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বাণিজ্যিক উন্নতিও ঘটবে।

নাট্যমঞ্চের আধুনিকীকরণ ও রেশনিং ব্যবস্থা (Sarbari Mukherjee)
বিধায়ক এদিন নাট্যচর্চার পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁর প্রস্তাব, বর্তমানে নাট্য একাডেমির আওতায় থাকা পাঁচটি হলের (রবীন্দ্র সদন, গিরিশ মঞ্চ, শিশির মঞ্চ, মিনার্ভা ও মধুসূদন মঞ্চ) পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) আওতাধীন মহেন্দ্র মঞ্চ, উত্তম মঞ্চ, রবীন্দ্র তীর্থ ও মোহিত মৈত্র মঞ্চকেও নাট্য একাডেমির অধীনে আনা হোক। এর ফলে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে নাট্যচর্চার সুযোগ বাড়বে
একই সঙ্গে, কলকাতার এই সরকারি হলগুলির ভাড়া সামান্য পুনর্বিন্যাস করে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা এবং ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব দেন তিনি।
জেলার হলগুলির ভাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিধায়ক বলেন, “জেলায় হলের ভাড়া অত্যন্ত বেশি (১৮-২০ হাজার টাকা)। এই ভাড়া কমিয়ে যদি ৬-৭ হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে এনে একটি ‘রেশনিং সিস্টেম’ বা সুষম বণ্টন ব্যবস্থা চালু করা যায়, তবে জেলা ও প্রান্তিক স্তরের শিল্পীরা নাট্যচর্চার সুযোগ পাবেন। এর ফলে কলকাতার হলগুলির ওপর থেকেও বাড়তি চাপ কমবে।

মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান (Sarbari Mukherjee)
বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি তাঁর বক্তব্যের শেষ অংশে ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর প্রতি সরকারের আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। বিধায়কের এই সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রস্তাবনা বাংলার নাট্য জগতকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করছেন রাজ্যের সংস্কৃতিকর্মীরা।


