Tmc clash
তিতলি কর্মকার, Bengal Liberty: মেয়র পদের রদবদল হতে চলেছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টপাধ্যায়ের ঘরওয়াপসি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮-তে অভিমান
করে তৃণমূল ছেড়েছিলেন শোভন-বৈশাখী। তবে, গেরুয়া ছন্দে বেশিদিন তাল মেলাতে পারেননি তাঁরা। কাজেই কয়েক দিনের মধ্যে পদ্মশিবিরের থেকে দূরত্ব তৈরি হয়। বেশিকিছু সময় সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন তাঁরা। মাস খানেক আগে NKDA-এর চ্যায়ার পার্সনকরা হয় শোভনকে। তার আগে বৈশাখীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব জল্পনা অবসান ঘটিয়ে, অবশেষে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদান করেন শোভন-বৈশাখী। এখানেই গল্প থেমে যেতে পারত। কিন্তু, না। ‘পিকচার আভি বাকি হে।’
তৃণমূল ভবনে দলের সিনিয়র নেতা সুব্রত বক্সী এবং অরূপ বিশ্বাস শোভন-বৈশাখীর হাতে দলীয় পতকা তুলে দেন। এরপরেই কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন দু’জনে। শোভন-বৈশাখীকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মিছিলের বার্তা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, আচমকা অভিষেকের বাড়ি কেন?

তবে কি মেয়র পদ থেকে কাঁচি হতে চলেছেন ফিরহাদ? (TMC Clash)
গতবছর ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগ তুলেছিল খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে এক কর্মী।
শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করছিলেন তিনি। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই ঢোক গিলে দুঃখ প্রকাশ করেন ফিরহাদ হাকিম। বলেছিলেন, ‘কোনও অভিযোগ থাকলে, আমাকে বলতে পারত।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট যে, মমতা-ঘনিষ্ট ফিরহাদকে রাস্তা থেকে সরাতে চান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই পথের কাঁটাকে সরাতেই কি ঘাসফুল শিবিরে শোভনের আগমন ঘটালেন তৃণমূলের নম্বর টু? উত্তর দেব ভবিষ্যত।
নারদা ইস্যু নিয়ে একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চক্রান্তের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দলের পুরোনোদের সাইডলাইনে করতে অভিষেক কে ডি সিংয়ের টাকা দিয়ে এই গোপন ষড়যন্ত্র করেছিলেন। বস্তুত, সেই তালিকায় নাম রয়েছে, শুভেন্দু, ফিরহাদ, শোভন-সহ একাধিক আদি তৃণমূল নেতা। অর্থাৎ, ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে যে অভিষেক পড়ে রয়েছেন, সেটা অনেকেই মনে করছেন। একদিন বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেই ফেলেছিলেন, ‘নারদ-কাণ্ড নিয়ে যা বলার, আমাদের বিরোধী দলনেতা বলে দিয়েছেন।’ তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, ফিরহাদ হাকিম তাঁর এই মন্তব্যের জন্য দলের অন্দরে বকা খেয়েছিলেন। ফলে, সবটা মিলিয়ে ফিরহাদ হাকিম চাপে।

