Kolkata Metro
Bengal Liberty
এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের সাক্ষী থাকল কলকাতা।
জোকা-এসপ্ল্যানেড (পার্পল লাইন) মেট্রো(Kolkata Metro) প্রকল্পে বড় সাফল্য মিলল। প্রথম পর্যায়ের টানেল নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করল টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ‘দুর্গা’। খিদিরপুরের সেন্ট থমাস স্কুল চত্বর থেকে প্রায় এক বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল ৯৫ মিটার লম্বা ও ৬০০ টনেরও বেশি ওজনের এই অত্যাধুনিক যন্ত্রটি। মাটির প্রায় ১৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রায় ১.৭ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ কেটে অবশেষে ভিক্টোরিয়া স্টেশনে পৌঁছেছে ‘দুর্গা’। টানেল ভেদ করে যখন বিশালাকার মেশিনটি ভিক্টোরিয়া স্টেশনে বেরিয়ে আসে, তখন নির্মাণকর্মী ও আধিকারিকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

মেট্রো প্রকল্পে বড় সাফল্য(Kolkata Metro)
২০২৫ সালের মার্চ মাসে চেন্নাই থেকে কলকাতায় আনা হয়েছিল ‘দুর্গা’কে। প্রয়োজনীয় সংযোজন ও পরীক্ষার পর একই বছরের ১০ জুলাই থেকে শুরু হয় সুড়ঙ্গ খননের কাজ। এক বছরেরও কম সময়ে প্রথম পর্যায়ের টানেলিং শেষ হওয়ায় প্রকল্পে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বর্তমানে খিদিরপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত মোট ২.৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ অংশের কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি সুড়ঙ্গের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করেছে ‘দুর্গা’। অন্যদিকে, জোকার দিকমুখী সমান্তরাল সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ করছে আরেকটি টানেল বোরিং মেশিন ‘দিব্যা’। পার্ক স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা (এসপ্ল্যানেড) পর্যন্ত অংশটি ‘কাট অ্যান্ড কভার’ পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হবে।
কল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ(Kolkata Metro)
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ফোর্ট উইলিয়াম, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও জাদুঘরসহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার নিচ দিয়ে, কোনো ক্ষতি না করেই সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের আধিকারিকরা।

উল্লেখ্য, জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আটকে ছিল। সেই বিলম্বকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে প্রথম পর্যায়ের টানেলিং সম্পূর্ণ হওয়ায় নির্মাণকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
এই মেট্রো করিডর সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার সঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থলের যোগাযোগ আরও দ্রুত, সহজ এবং নিরবচ্ছিন্ন হবে। একই সঙ্গে কলকাতার যানজট কমাতে এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

