Bengal Liberty
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ(West Bengal Education) করেই একাধিক সংস্কারমূলক কাজের উদ্যোগ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় বদল আসতে চলেছে বলে জানালেন স্কুলশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী দীপক বর্মন।

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারমূলক(West Bengal Education)
রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা করল স্কুলশিক্ষা দপ্তর। পড়ুয়া ও শিক্ষকের অনুপাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে ‘সারপ্লাস’ বা বাড়তি শিক্ষকদের অন্য স্কুলে বদলি করার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও শুরু করেছে সরকার। এ বিষয়ে শিক্ষকদের সচেতন করতে ‘উজ্জীবন চর্চা’ নামে একটি অনলাইন কর্মশালার আয়োজন করেছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর।

দপ্তর সূত্রে খবর(West Bengal Education)
প্রথম পর্যায়ে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু হবে। ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার (RTE) আইন অনুযায়ী প্রতি ৩০ জন পড়ুয়ার জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে বহু স্কুলে যেমন শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, তেমনই কোথাও আবার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষক রয়েছেন। সেই বৈষম্য দূর করতেই বাড়তি শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় স্কুলগুলোতে বদলি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর

অনলাইন কর্মশালার মাধ্যমে নতুন পাঠক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষকদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এই নীতির বিভিন্ন দিক রাজ্যের স্কুলগুলিতে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, শিক্ষক বদলির নামে কার্যত পড়ুয়াশূন্য বা কম পড়ুয়া থাকা বহু সরকারি স্কুল স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
তাঁদের মতে, বন্ধের মুখে থাকা স্কুলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিবর্তে সেখান থেকে শিক্ষক সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করবে। এই ইস্যুতে বিজেপি শিক্ষক সেলও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
যদিও স্কুলশিক্ষা দপ্তরের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কোনও স্কুল বন্ধ করা নয়। বরং যেখানে শিক্ষক কম, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক পৌঁছে দিয়ে শিক্ষার মান উন্নত করা এবং সমস্ত স্কুলে সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


