Spain Vs France review 2026
Bengal Liberty: চলতি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স (Spain Vs France review 2026)। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছিল। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে।
ফুটবল বিশ্লেষকদেরও দাবি ছিল, দুই ইউরোপিয়ান পাওয়ারহাউসের এই লড়াই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন সবাই। সেই সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপে বনাম লামিন ইয়ামালের লড়াই দেখার জন্যও মুখিয়ে ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু কথায় বলে, “যেমন গর্জে, তেমন বর্ষে না।” বাংলা ভাষার এই পরিচিত প্রবাদটির মতোই হলো স্পেন বনাম ফ্রান্সের সেমিফাইনাল ম্যাচটি।

ছন্দহীন ফ্রান্স (Spain Vs France review 2026)
রেফারির বাঁশির সঙ্গেই শুরু হয়েছিল বহু প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। কিন্তু গোটা ম্যাচ জুড়ে ফ্রান্সের তরফ থেকে ন্যূনতম লড়াইয়ের মানসিকতাও দেখা গেল না। পুরো ম্যাচে ছন্নছাড়া ও ছন্দহীন ফুটবল খেলল তারা। স্পেনের আক্রমণের সামনে ফরাসিদের পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই ম্লান। ম্যাচের ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ওয়ারজাবালের (Oyarzabal) গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। এরপর পুরো ম্যাচ জুড়েই কেবল ব্যর্থতার লজ্জাজনক নজির তৈরি করলেন এমবাপেরা।
পোরোর গোলে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও ছবির কোনো বদল ঘটেনি। ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের বড্ড বেশি ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। এই মহারণে তাদের কোনো নির্দিষ্ট রণকৌশল বা রণনীতি চোখে পড়েনি। খেলা দেখে মনে হচ্ছিল এটি কোনো সেমিফাইনাল নয়, বরং অত্যন্ত সাধারণ একটি ম্যাচ চলছে। এর চেয়েও বেশি লড়াই তো যেকোনো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে দেখা যায়!

অবশেষে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিলেন পেড্রো পোরো। ৫৮ মিনিটে তাঁর অসাধারণ গোলের সৌজন্যে ২০১০ সালের পর ফের একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রবেশ করল স্পেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা মাঠ ছাড়লেন জয়ের হাসিতে। ফলে ১৬ বছর পর ফের বিশ্বকাপ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ চলে এল লা রোহাদের সামনে। অন্যদিকে, অতিসাধারণ ফুটবল খেলে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো ফ্রান্স ও কিলিয়ান এমবাপের।
টানা ব্যর্থতার পর অবশেষে ফাইনালে স্পেন

২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা তিনটি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার লজ্জাজনক নজির গড়েছিল স্পেন। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কিংবদন্তি রবিন ফন পার্সির সেই বিখ্যাত ‘ফ্লাইং ডাচম্যান’ গোলের ধাক্কা সামলাতে না পেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল স্পেনকে। ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও ছবির কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরপর দুবার তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ রাশিয়া ও মরক্কোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিল তারা।
তবে সেই অন্ধকার অধ্যায় কাটিয়ে অবশেষে সাফল্যের সরণিতে স্পেন। ইউরো কাপ জয়ী এই দল চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের কাছে হোঁচট খেয়েও আজ ফাইনালে।

আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড? (Spain Vs France review 2026)
আগামী বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যারাডোনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখনো তাজা। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে মাঠের ভেতরের ও বাইরের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
গত ইউরো কাপের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি নাকি ফাইনালিসিমায় হতে গিয়েও বাতিল হয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের মহারণ—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মেগা ফাইনালে শেষ পর্যন্ত কোন দুই পরাশক্তি মুখোমুখি হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ফুটবল বিশ্ব।
আরো পড়ুন:-
Madan Mitra: বিজেপিকে ভবিষ্যতে হারাতে দল না বদলে ঘর বদলালেন মদন!

