Commonwealth Games 2026
Bengal Liberty
২০২৬ সালে স্কটল্যান্ডের(Commonwealth Games 2026) গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস। ১২ দিনের এই মেগা ইভেন্ট শুরু হওয়ার আগেই ভারতীয় ক্রীড়ামহলে তৈরি হয়েছে বড়সড় উদ্বেগ। কারণ, এবারের আসর থেকে এমন একাধিক খেলা বাদ দেওয়া হয়েছে, যেগুলি থেকে অতীতে ভারতের সবচেয়ে বেশি পদক এসেছিল। ফলে প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই ভারতের সম্ভাব্য পদকের সংখ্যা অনেকটাই কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


বাদ পড়েছে যেসব খেলা, সেখানেই ছিল ভারতের মূল শক্তি২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে খরচ কমাতে বেশ কয়েকটি ইভেন্ট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা। বাদ পড়া খেলাগুলির মধ্যে রয়েছে কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, হকি, টেবিল টেনিস এবং স্কোয়াশ। অথচ গত কয়েকটি আসরে এই খেলাগুলিতেই ভারত নিয়মিত পদক জিতেছে। বিশেষ করে কুস্তি ও ব্যাডমিন্টনে ভারতের সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি টেবিল টেনিস ও হকিতেও ভারত ধারাবাহিকভাবে পদক পেয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ইভেন্টগুলি না থাকায় ভারতের পদক তালিকায় বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পদকের আশা কি অনেকটাই ম্লান?(Commonwealth Games 2026)
২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৬১টি পদক জিতেছিল। যার একটি বড় অংশই এসেছিল এবার বাদ পড়া খেলাগুলি থেকে। সেই হিসেব অনুযায়ী, পদক জয়ের প্রায় অর্ধেক সুযোগই এবার ভারতের হাতছাড়া হতে চলেছে।এই কারণেই গেমস শুরুর আগেই চিন্তায় পড়ে গেছে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। কারণ, পদক সংখ্যা কমে গেলে পদক তালিকায় ভারতের সামগ্রিক র্যাংকিং অনেকটাই নেমে যেতে পারে।

নতুন খেলায় ভারতের ভরসা(Commonwealth Games 2026)
তবে পরিস্থিতির পুরোটাই হতাশার নয়। ভারতীয় দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো—এবারের আসরে শুটিং ফিরে এসেছে, যা ভারতের অন্যতম সেরা ইভেন্ট। এছাড়া অ্যাথলেটিক্স, ভারোত্তোলন, বক্সিং এবং প্যারা স্পোর্টসেও পদক জেতার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বাস্তব এটাই যে, যেসব খেলায় ভারত বরাবর আধিপত্য বজায় রেখে এসেছে, সেগুলি না থাকায় আগের মতো পদকের বন্যা হয়তো দেখা যাবে না। তাই গ্লাসগোয় নামার আগে সম্মানজনক পদকসংখ্যা ধরে রাখাই এখন ভারতীয় দলের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে ভারত সবসময়ই অন্যতম সফল দেশ। কিন্তু বদলে যাওয়া ইভেন্ট তালিকা এবার সমীকরণটাই পাল্টে দিয়েছে। শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেলেও বিকল্প ইভেন্টগুলিতে সাফল্য পেয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করাই এখন গ্লাসগোমুখী ভারতীয় দলের প্রধান লক্ষ্য।

