Kolkata Derby
Bengal Liberty
ভারতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের(Kolkata Derby) উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন যেন চাঁদের হাটে পরিণত হয়েছিল। ইন্দ্রনীল খাঁ, তাপস রায়, দিলীপ ঘোষ ও শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের মতো তাবড় তাবড় নেতৃত্ব ডুরান্ড ডার্বির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন। ম্যাচের আগে বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ছৌ নাচের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

প্রথমার্ধের জমজমাট ফুটবল(Kolkata Derby)
নৃত্য পরিবেশনা, উপচে পড়া দর্শক আর দারুণ ফুটবল—সব মিলিয়েই কলকাতা ডার্বির আসল মেজাজ। আজকের ম্যাচেও ধরা পড়ল সেই একই ছবি। রেফারির বাঁশি বাজতেই সূচনা হয় কাঙ্ক্ষিত এই লড়াইয়ের।
প্রতিটি মুহূর্তেই দুই দল গোল করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। রক্ষণভাগ মজবুত রেখেই আক্রমণ চালাতে থাকে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও ফুটবলপ্রেমীদের আশা ছিল, বিরতির পরেই খুলবে গোলের দরজা।
দ্বিতীয়ার্ধে সাহালের গোলে মোহনবাগানের জয়(Kolkata Derby)
বিরতির পর খেলার গতি ও মান দুটোই অনেকটাই বেড়ে যায়। দুই দলই লড়াকু মানসিকতা নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে। অবশেষে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাহাল আব্দুল সামাদের দুর্দান্ত গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। গোলটি পাওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় সবুজ-মেরুন শিবিরের হাতে।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর লাল-হলুদ শিবির সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক আক্রমণ ছুড়ে দেয়। কিন্তু মোহনবাগানের পোস্টের নিচে ‘মানব প্রাচীর’ হয়ে দাঁড়ান বিশাল কাইথ, যাঁকে ভেদ করা ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে সম্ভব হয়নি।ইস্টবেঙ্গলের একাধিক আক্রমণ সত্ত্বেও বিশাল ছিলেন অবিচল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই ডুরান্ড ডার্বির রং হয়ে ওঠে সবুজ-মেরুন। এই জয়ের সঙ্গেই গ্রুপ-এ-র শীর্ষস্থানে উঠে এল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
দুই কোচের লড়াই(Kolkata Derby)
মাঠে ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি ডাগআউটে চলছিল অ্যান্টোনিও লোপেজ হাবাস বনাম পানাগিওটিস ডিলমপেরিসের দুর্দান্ত রণকৌশলের লড়াই। আধুনিক ফুটবলে নিখুঁত প্ল্যানিং ও কৌশল কাকে বলে, এই ম্যাচ তার অন্যতম সেরা উদাহরণ হয়ে রইল। উপস্থিত দর্শকদের মতে, হাবাসের সেই চেনা রক্ষণাত্মক ও নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল দর্শনই শেষ পর্যন্ত মোহনবাগানকে জয় এনে দিয়েছে।প্রথম রাউন্ডে মোহনবাগান জয় পেলেও ইস্টবেঙ্গল কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? আর মোহনবাগান কি পারবে জয়ের এই ধারা বজায় রাখতে? এই প্রশ্নগুলোকে ঘিরে ডুরান্ড কাপের উত্তেজনা এখন চরমে ।


