Bengal Liberty: মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার বা মাইক খুলে নেওয়ার পুলিশি নির্দেশের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের কোনো রকম আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি, পাবলিক নোটিশ বা লিখিত নির্দেশ ছাড়াই এই ধরনের অভিযান চলছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। মামলাকারীর পক্ষে আদালতে এই লড়াই পরিচালনা করছেন স্বয়ং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঠিক কী অভিযোগ তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়? (Kalyan Banerjee)
সম্প্রতি মসজিদ এবং মন্দির সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের একটি স্পষ্ট রায় রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট ডেসিবেল মাত্রা বা শব্দের সীমা কঠোরভাবে মেনে আজান দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কোনো লিখিত সরকারি আদেশ বা লিখিত নোটিশ জারি না করেই মৌখিক নির্দেশের জোরে পুলিশ সরাসরি মসজিদে গিয়ে মাইক খুলে নিচ্ছে। আবেদনকারী দানিশ ফারুকির দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনিভাবে এই কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে হাইকোর্ট এই মামলা গ্রহণ করেছে এবং শীঘ্রই এর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও খবর

কী সাফাই দিয়েছে রাজ্য সরকার? (Kalyan Banerjee)
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে সাফাই দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে টার্গেট করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে না। ২০২০ সালে কলকাতা হাইকোর্ট শব্দদূষণ রোধ সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা দিয়েছিল, মূলত সেই আইন ও নিয়মকানুন মেনেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এর আগে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই রাজ্যের ৩৪টি পুলিশ জেলাতেই মসজিদ ও মন্দির—উভয় স্থান থেকেই মাইক সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।
তবে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশকে হাতিয়ার করে এবং লিখিত নির্দেশিকা ছাড়াই পুলিশি তৎপরতার বিরুদ্ধে তৃণমূল সাংসদের এই আইনি পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ
https://bengalliberty.com/2026/08/14/ananta-maharaj-fir/


