Bengal Liberty : বীরভূমের বগটুই-কাণ্ডের প্রায় চার বছর পর মুম্বই থেকে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুনের অন্যতম অভিযুক্ত মসাদ শেখ (Bogtui)। শুক্রবার মুম্বইয়ের ডংরি থানার ওয়াদিবন্দরের টোব্যাকো গলি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মসাদকে এর আগে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করেছিল রামপুরহাট আদালত। মুম্বই আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড পাওয়ার পর তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়। শনিবার বর্ধমানের সিজেএম আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার তাঁকে বর্ধমানের তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করা হবে (Bogtui)।

ভাদু খুন থেকে বগটুই গণহত্যা, কী ঘটেছিল? (Bogtui)
২০২২ সালের ২১ মার্চ। বগটুই মোড়ের কাছে একটি চায়ের দোকানের সামনে মোবাইলে কথা বলছিলেন ভাদু শেখ। সিবিআইয়ের অভিযোগ, সেই সময় বাইকে করে কয়েকজন এসে তাঁর উপর হামলা চালায়। বোমা ও গুলির আঘাতে গুরুতর জখম হন ভাদু। তাঁকে রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ভাদুর ভাই বিকির আলি রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ভাদু শেখ খুনের পরই অশান্ত হয়ে ওঠে বগটুই। একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শিশু ও মহিলা-সহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। প্রথমে ভাদু খুন এবং বগটুই গণহত্যা-দুই মামলার তদন্তই সিটের হাতে ছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই।
ভাদু খুনের মামলায় ২০২২ সালের ২০ জুন পলাশ খান ওরফে ফইজল খান, সঞ্জু শেখ ওরফে নূর ইসলাম শেখ, সফি শেখ এবং মাহী শেখের বিরুদ্ধে খুনের ষড়যন্ত্র, বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে চার্জশিট দেয় সিবিআই। পরে সোনা শেখ, ছোট লালন শেখ ওরফে কামরুল শেখের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় প্রথম অতিরিক্ত চার্জশিট। এরপর ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিউটন শেখ ওরফে আসামুল হক, মসাদ শেখ এবং শেরা শেখের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করে তদন্তকারী সংস্থা। হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি রামপুরহাট আদালত থেকে বর্ধমান আদালতে স্থানান্তরিত হয়। ২০২৪ সালের ৬ জুন সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আদালত। সেই সময় মসাদকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের সেই পলাতক অভিযুক্তকেই এবার মুম্বই থেকে পাকড়াও করল সিবিআই।
আরও খবর

বগটুই মামলাতেও বাড়ছে ধরপাকড়ের গতি (Bogtui)
ভাদু শেখ খুনের পাশাপাশি বগটুই গণহত্যা মামলার তদন্তও চলছে বর্ধমানের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে। ওই মামলায় মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। তাঁদের মধ্যে দু’জনের ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে এবং ২২ জনকে আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কয়েক মাস আগে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট থেকে রোহন শেখ ওরফে কিসমত শেখকে গ্রেফতার করে সিবিআই। রোহন বগটুই-কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের ছেলে। সিবিআই হেফাজতে থাকাকালীন লালন শেখের রহস্যমৃত্যু হয়।
সিবিআইয়ের চার্জশিটে নাম থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২৩ জন গ্রেফতার হয়েছেন। মসাদ শেখের গ্রেফতারির পর ভাদু শেখ খুন এবং বগটুই গণহত্যা-দুই মামলার তদন্তেই আরও গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবার মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/17/dr-avik-de-2/


