Bengal Liberty: সম্প্রতি দেশপ্রিয় পার্কের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও বিতর্ক দূর করতে নিজেই মাঠে নামলেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্বপন দাশগুপ্ত। মঙ্গলবার সকালে তিনি নিজে সশরীরে দেশপ্রিয় পার্ক পুজোপ্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পুজো পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তৈরি হওয়া মতপার্থক্য মেটাতে এবং উৎসবকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন এই পরিদর্শনের প্রয়োজন হলো এবং পরিস্থিতি কী?
গত কয়েক দিন ধরে দেশপ্রিয় পার্কের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তি ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় বহু মানুষ এই বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানানোর পর মঙ্গলবার সকালে স্বপন দাশগুপ্ত যখন পার্ক চত্বরে পৌঁছন, তখন সেখানে প্রায় শতাধিক স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুজোর উৎসাহ ও উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো থাকলেও, পুজো পরিচালনা করা নিয়ে একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষ থেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পুজো পরিচালনার দায়িত্বে নতুন অস্থায়ী কমিটি
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা এবং সকলের মতামত ও সম্মতিক্রমে দেশপ্রিয় পার্কের এই পুজো পরিচালনার জন্য আপাতত একটি অ্যাড হক বা অস্থায়ী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটির প্রধান বা মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এলাকার বিশিষ্ট স্থানীয় ব্যক্তিত্ব পূর্ণিমা দত্ত এবং দীপঙ্কর চ্যাটার্জী। স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো একক রাজনৈতিক বা বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাবে পুজো পরিচালিত না হয়।
আরও খবর

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা
এলাকার বিধায়ক তথা সংশ্লিষ্ট শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজো কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের উৎসব। পুজোর দিনগুলিতে যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনো সমস্যা না হয়, যান চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পুজোপ্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার সম্পূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সবমিলিয়ে, দেশপ্রিয় পার্কের পুজোকে কেন্দ্র করে চলা সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও জনমুখী বার্তা দেওয়া হল। সংঘাত বা বিভাজন এড়িয়ে পুজোকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষের আনন্দের উৎস হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এলাকার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ বছরের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দের সঙ্গেই উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ
https://bengalliberty.com/2026/08/19/diamond-harbour-cag/


