Bengal Liberty:
সরকারি দফতর থেকে থানা। ঘুষ ও তোলাবাজির অভিযোগে পরপর সরকারি আধিকারিকদের গ্রেফতার ঘিরে এবার প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সরকারের ‘নিজের ঘরেই’ গলদ? ঝাড়গ্রামে চলতি মাসেই সরকারি আধিকারিক গ্রেফতারের পর ফের একই জেলায় দুর্নীতি দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হলেন এক পুলিশ কনস্টেবল। অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগে ঝাড়গ্রাম থানার কনস্টেবল রতন প্রামাণিককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা।

গ্রেফতার কনস্টেবল (Anti Courruption Branch)
শুধু কনস্টেবল নন, এই ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন বালি ব্যবসায়ীদের দালাল শান্তনু বারিক, দীপঙ্কর বারিক ও রবি বারিক। পুলিশ সূত্রে খবর,ধৃতদের কাছ থেকে মোট ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।
আরও খবর
তদন্তকারীদের দাবি, মঙ্গলবার বাঁধগোড়া এলাকায় হানা দিয়ে প্রথমে রবি ও দীপঙ্করকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শান্তনুর সন্ধান মেলে। শান্তনুর বাড়ি থেকে ট্রাক্টর মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা উদ্ধার হয়। সেই টাকা ঝাড়গ্রাম থানার এক কনস্টেবলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানতে পেরে ফাঁদ পাতেন তদন্তকারীরা।
বালি ব্যবসায়ী সেজে শান্তনুর সঙ্গে ঝাড়গ্রাম থানায় পৌঁছন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার ব্যাগ কনস্টেবল রতন প্রামাণিকের হাতে তুলে দেওয়ার সময়ই তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। এই চক্রে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতার সরকারি আধিকারিক (Anti Corruption Branch)
অথচ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই ঝাড়গ্রামের জামবনি বিডিও অফিস চত্বর থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন রুরাল ওয়ার্ক প্রজেক্ট ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহা। অভিযোগ, একটি সাব-হেলথ সেন্টার তৈরির বিল পাশ করানোর জন্য সাব-কন্ট্রাক্টরের কাছে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন তিনি। টোপ দিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ACB(Anti Courruption Branch)।
তারপর ১৭ আগস্ট হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের সাঁকরাইল থানার সাব-ইন্সপেক্টর সুব্রত সরকারও ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ACB-র হাতে গ্রেফতার হন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ (Anti Courruption Branch)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি হোন বা সরকারি আধিকারিক, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ঘুষ বা তোলাবাজির অভিযোগ জানাতে টোল-ফ্রি নম্বরের কথা ঘোষণা করেছেন।
সেই আবহেই পরপর পুলিশ ও সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে গ্রেফতারি। ফলে প্রশ্ন উঠছেই, তোলাবাজি বন্ধ করার দায়িত্ব যাদের, সেই প্রশাসনের ‘নিজের ঘরেই’ কি আগে গলদ খুঁজে বের করা জরুরি?

আরও পড়ুনঃ স্কুলে এবার ‘সংস্কৃত দিবস’! মন্ত্রপাঠ থেকে নাটক, প্রাচীন ভাষার প্রসারে স্কুলশিক্ষা দফতরের উদ্যোগ


