Bengal Liberty:
গত সাত দিন ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ১৯ ও ২০ অগস্ট ক্যাম্পাস এবং ৮বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এসএফআই ও এবিভিপির সংঘর্ষের পর এবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি দেওয়া পোস্টার ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে(Jadavpur University)। পোস্টারে প্রধানমন্ত্রীর মুখের পাশে লেখা, ‘যাদবপুরে কী চলছে?’ তার উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী—‘বন্দে মাতরম চলছে’। আর সেই পোস্টারই সামনে এনে দিচ্ছে আরও বড় প্রশ্ন—যাদবপুর কি এবার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে চলেছে?

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য (Jadavpur University)
এর মধ্যেই ভবানীপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, যাদবপুরের একাংশ ছাত্রছাত্রী রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ও স্লোগানের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানিয়েছেন, যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং রাজ্যে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। পরে নবান্ন থেকেও তিনি যাদবপুরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন। পাশাপাশি, রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যাদবপুরেও রাষ্ট্রবাদী চেতনা প্রতিষ্ঠার কথা বলেন তিনি।
আরও খবর
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা পোস্টার পড়ায় জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। এসএফআই অবশ্য পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বদেশি আন্দোলন এবং জাতীয় শিক্ষার বিকাশের সঙ্গে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস এত গভীরভাবে যুক্ত, সেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের দেশপ্রেমের প্রশ্নে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কতটা যুক্তিসঙ্গত? রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে ‘রাষ্ট্রবিরোধিতা’র তকমা না দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিসরেই মোকাবিলা করার দাবি তুলেছে তারা।

যাদবপুরের দখল (Jadavpur University )
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। রাজ্যে যে দলই ক্ষমতায় থেকেছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল আমলেও এসএফআই এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সংঘর্ষ একাধিকবার উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ফলে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপিও যদি রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিসরে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যাদবপুরও তার বাইরে থাকবে না—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার রাজনীতির আড়ালে যাদবপুরের মূল সমস্যাগুলি কি পিছনে চলে যাচ্ছে? সাধারণ পরিবারের মেধাবী ছেলেমেয়েরাও যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়, এলিট প্রতিষ্ঠানের বদলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাছেও যাতে যাদবপুর আরও সহজলভ্য হয়, সেই পরিবেশ তৈরি করা কি বেশি জরুরি নয়? শিক্ষা পরিকাঠামো, পঠনপাঠনের পরিবেশ, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিসর—এই বিষয়গুলির পরিবর্তে রাজনৈতিক দখলদারির প্রশ্নই যদি সামনে আসে, তাহলে আখেরে ক্ষতি হবে শিক্ষাঙ্গনেরই।

Jadavpur University
এদিকে, ২৮ অগস্ট রাখিবন্ধনের দিন রাজ্যজুড়ে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আবহেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ওই দিনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষভাবে নজরে রাখছেন তিনি? ‘নকশাল’ ও বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত যাদবপুরেই কি এবার মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাবে? সংঘর্ষ, তদন্ত, পোস্টার এবং রাজনৈতিক বার্তার এই আবহে যাদবপুরের পরবর্তী অধ্যায় কোন দিকে যায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ অধীরকে এড়িয়েই কংগ্রেসে ফিরতে চান মনিরুল, মুর্শিদাবাদে প্রকাশ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব


