Bengal Liberty : নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের চার দিন পরেও কাটেনি আতঙ্ক (Nepal)। বিপর্যস্ত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও আটকে রয়েছেন শত শত শ্রমিক। কোথায় কত জন আটকে রয়েছেন, তারও স্পষ্ট হিসাব মেলেনি। আনুমানিক ৯০০ শ্রমিক সুড়ঙ্গে আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে তিনশোর কিছু বেশি শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্তত ৫৩৭ জনের এখনও কোনও খোঁজ নেই। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই কঠিন হয়ে উঠছে তাঁদের জীবিত উদ্ধারের আশা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নেপালের বিপর্যস্ত এলাকাগুলি থেকে ৭৮৮ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২৫০২ জন (Nepal)।

ত্রিশূলীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে বিপর্যয় (Nepal)
নেপালের ত্রিশূলী নদীর উপর রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা মিলিয়ে মোট ন’টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি এখনও নির্মীয়মাণ। হড়পা বানের প্রবল স্রোতে প্রকল্পগুলির একাধিক সুড়ঙ্গের মুখ কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপে পুরোপুরি চাপা পড়ে যায়। ভিতরে থাকা শ্রমিকদের অনেকেই বেরোতে পারেননি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বৃহস্পতিবার থেকেই সুড়ঙ্গগুলিতে উদ্ধারকাজ শুরু করে নেপাল সেনা ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। কিন্তু বিপুল পরিমাণ কাদা, মাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে বার বার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। কোথাও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করেও সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা মানুষের কোনও অস্তিত্ব শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

আপার ত্রিশূলী-৩এ-তে মিলল সুড়ঙ্গের মুখ (Nepal)
নুয়াকোটের আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনকগুলির মধ্যে একটি। বিপর্যয়ের পর সুড়ঙ্গে ঢোকার রাস্তা পুরোপুরি কাদামাটির নীচে চাপা পড়েছিল। ভিতরে কত জন শ্রমিক রয়েছেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। নেপাল সেনার অনুমান, অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক সেখানে আটকে থাকতে পারেন। আবার নেপাল পুলিশের অনুমান, সংখ্যাটি প্রায় ২০০-র কাছাকাছি হতে পারে।ড্রিল মেশিন, মাটি কাটার যন্ত্র এবং হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করে রবিবার বিকেলে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথের সন্ধান পান উদ্ধারকারীরা। পরে উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভিতরেও প্রবেশ করেন। কিন্তু ডাকাডাকি করেও কারও সাড়াশব্দ পাননি তাঁরা।
আরও খবর
নেপালি সেনার মুখপাত্র রাজারাম বাসনেট জানিয়েছেন, একটি জায়গায় গর্ত করার পর প্রায় সাত মিটার ব্যাসের একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে সেখানে জলের স্তর অনেকটা উপরে উঠে গিয়েছিল।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কা আপার ত্রিশূলী-১ নিয়ে (Nepal)
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের দফতর জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের উপরের অংশ ড্রিল করে উদ্ধারকারীরা প্রবেশের রাস্তা তৈরি করেছিলেন। ভিতরে ঢুকে শ্রমিকদের খোঁজে ডাকাডাকি করা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন সুড়ঙ্গের মুখ আরও চওড়া করে ভিতরে প্রবেশের পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তবে উদ্ধারকারীদের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে। সেখানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে একদিকে নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কঠিন হয়ে উঠছে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে দ্রুত পৌঁছনোটাই এখন নেপাল সেনা ও উদ্ধারকারী দলগুলির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/30/nepal-flood-19/


