Bengal Liberty:
ভারতীয় রাজনীতির এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসানের দিন। আজও তাঁকে আবেগে স্মরণ করেন রাজনৈতিক মহল। ২০২০ সালের ৩১ অগস্ট প্রয়াত হয়েছিলেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর ষষ্ঠ প্রয়াণবার্ষিকীতে প্রবাদপ্রতিম এই বাঙালি রাজনীতিবিদকে স্মরণ করল কংগ্রেস।২০২০ সালের ৩১ অগস্ট প্রয়াত হয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়(Pranab Mukhupadhay)। দিল্লির জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে নিজের প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় যে জায়গা তিনি তৈরি করেছিলেন, তা আজও ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া প্রথম বাঙালি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ২০১৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত করা হয়।

স্মৃতি চারণে অধীর (Pranab Mukhupadhay)
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুড়ে রয়েছে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁকে ভারতীয় রাজনীতির ‘লিজেন্ডারি ফিগার’ এবং ‘টাওয়ারিং পার্সোনালিটি’ বলে উল্লেখ করেছেন। অধীরের কথায়, প্রণবদা ছিলেন জ্ঞান ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার এক ‘এনসাইক্লোপিডিয়া’। জঙ্গিপুর থেকে তাঁকে নির্বাচনে দাঁড় করানোর পিছনের ঘটনাও তুলে ধরেছেন অধীর। তাঁর দাবি, প্রথমে ভোটে লড়তে রাজি ছিলেন না প্রণববাবু। শেষ পর্যন্ত সোনিয়া গান্ধীর সম্মতি নিয়ে তাঁকে জঙ্গিপুরে প্রার্থী করতে রাজি করান তিনি।
আরও খবর
অধীরের স্মৃতিতে উঠে এসেছে প্রচারের সেই সময়ের কথাও। তাঁর বক্তব্য, মুর্শিদাবাদের মানুষকে বোঝানো হয়েছিল—দিল্লি থেকে এমন একজন ‘মেহমান’কে আনা হয়েছে, যাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব।

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রা (Pranab Mukhupadhay)
দেশের রাজনীতিতে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৯ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে। ওই বছরই তিনি রাজ্যসভার সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ এবং ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিদেশমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ সালেও বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১২ সালের ২৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন এবং ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামকে ‘এক নম্বরে’ রেখে রেল-সেতু থেকে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের বার্তা শুভেন্দুর


