Bengal Liberty : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল দল ভেঙে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে গিয়েছে । দলের পরিচিত নাম ও প্রতীক, সবই ফ্রিজ। কিন্তু সম্রাট ও সাম্রাজ্য এভাবে নাগালের বাইরে চলে যাবে, সেটা বোধহয় মানতে পারছেন না অভিষেক। কারণ রেজিনগরের উপনির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পরেও ভোটের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে কার্যত মুখ পুড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ফিরে এল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সাত লাখের বেশি ভোটে ছাপ্পা দিয়ে জেতা প্রসঙ্গ। সঙ্গে নির্বাচন কমিশনও এক্স হ্যান্ডলে জবাব দেওয়ায় মুখ পুড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপোর।
১০৯ নম্বর বুথের ভোটার সংখ্যা এবং বিজেপির প্রাপ্ত ভোট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই না করেই কি পোস্ট করেছিলেন অভিষেক? তাঁর পোস্টের পাল্টা তথ্য প্রকাশ করে মুর্শিদাবাদ জেলা নির্বাচনী দফতর যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ১০৯ নম্বর বুথে নথিভুক্ত ভোটার ৭৭২ জন। অথচ সেখানে বিজেপি ৯০৯টি ভোট পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই হিসাবকে সামনে রেখে ভোটের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলা নির্বাচনী দফতরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই বুথে নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ১,১০৯ জন। সেখানে সব প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৯৭২টি ভোট পড়েছে। অর্থাৎ, অভিষেকের পোস্টের তথ্য ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আরও খবর
প্রশাসনিক দফতর যখন নির্দিষ্ট বুথের ভোটার সংখ্যা এবং মোট ভোটদানের হিসাব প্রকাশ করে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করছে, তখন প্রশ্ন উঠছে, পোস্ট করার আগে অভিষেক কি সরকারি পরিসংখ্যান যাচাই করেছিলেন? নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই প্রশ্নের ভিত্তি যদি ভুল পরিসংখ্যান হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ একে অপরাধপ্রবণ মানসিকতা বলেও দাবি করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রেজিনগরে দলের পরাজয় মেনে নিতে না পেরেই এমন দাবি তুলে আলোচনায় থাকতে চাইছেন অভিষেক।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, দলের পরিচিতি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে একের পর এক ধাক্কার মুখে পড়েছে তৃণমূল। ঘাসফুল প্রতীক ও দলের নামের স্বীকৃতি নিয়েও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রেজিনগরের ফলাফল নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ কালীঘাটের অন্দরে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। কিন্তু উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শাঁখারভ সরকার ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই ফলাফল রেজিনগরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। রেজিনগরের ভোটের পরিসংখ্যান নিয়ে ভুল তথ্য প্রচারের অভিযোগে ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই বিতর্কে কমিশন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


