Bengal Liberty: পশুর উপর নির্বিচারে অত্যাচার কিংবা নিষ্ঠুরভাবে প্রাণহানি কোনও সভ্য সমাজেই কাম্য নয়। আর হিন্দু সমাজে গরু শুধু একটি গবাদি পশু নয়, বহু মানুষের কাছে তিনি ‘গো মাতা’- যিনি শ্রদ্ধা, আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। সেই বিশ্বাসে আঘাত হানার পাশাপাশি বেআইনি ও নিষ্ঠুর পশুহত্যা রুখতে আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবিও দীর্ঘদিনের। এবার সেই প্রসঙ্গেই মালদার মথুরাপুরের সভা থেকে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “১৯৫০ সালের পশু হত্যা আইন কার্যকর হবে। কোনও গো মাতার উপর কেউ হাত যেন না ওঠায়।” তারপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পরিষ্কার বলে গেলাম।”

১৯৫০ সালের পশু হত্যা আইনে কী ছিল?
পশু হত্যা আইন ১৯৫০-এ শুধু গরু নয়, একাধিক ধরনের গবাদি পশু জবাই নিয়ন্ত্রণের বিধান ছিল। এর আওতায় ছিল ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ, মহিষের বাছুর এবং বন্ধ্যা বা খাসি করা মহিষ।এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বিচারে পশুহত্যা বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্তের মাধ্যমে জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া। অর্থাৎ, কোনও পশুকে ইচ্ছেমতো জবাই করা যাবে না-তার আগে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘Fit for Slaughter’ সার্টিফিকেট নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনও পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হলে এবং সেটি কাজ বা প্রজননের ক্ষেত্রে অযোগ্য হয়ে পড়লে জবাইয়ের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়। এছাড়াও বয়সের পাশাপাশি গুরুতর আঘাত, শারীরিক বিকৃতি বা এমন কোনও নিরাময়-অযোগ্য রোগের কারণে যদি পশুটি স্থায়ীভাবে কাজ বা প্রজননের অযোগ্য হয়ে যায়, তাহলেও সার্টিফিকেট দেওয়ার সুযোগ ছিল। অর্থাৎ, শুধুমাত্র পশুটির মালিক জবাই করতে চাইছেন-এই কারণেই জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হত না। পশুটির শারীরিক অবস্থা এবং কর্মক্ষমতাও বিবেচনার বিষয় ছিল।
আরও খবর

সার্টিফিকেট পেলেও যেখানে-সেখানে জবাই নয়
আইনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। ‘Fit for Slaughter’ সার্টিফিকেট পাওয়ার পরেও অনুমোদিত বা নির্দিষ্ট জায়গাতেই পশুটিকে জবাই করার কথা বলা হয়েছিল। আইনের বিধান অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা জরিমানা, অথবা দুটোই হতে পারে। অর্থাৎ, ১৯৫০ সালের আইনের কাঠামোতে পশুহত্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল-পশুর উপযুক্ততা যাচাই, অনুমোদিত সার্টিফিকেট এবং নির্দিষ্ট জায়গায় জবাই।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে দিনের পর দিন পশু হত্যার বাড়বাড়ন্ত বেড়েই চলেছে। এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, শুধু আইন তৈরি করলেই পশুহত্যা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। আইনের কঠোর, নিরপেক্ষ এবং ধারাবাহিক প্রয়োগ প্রয়োজন। ১৯৫০ সালের পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণের বিধানের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বিচারে গবাদি পশু হত্যা রোধ করা এবং নির্দিষ্ট শর্তের বাইরে জবাই নিয়ন্ত্রণ করা। মুখ্যমন্ত্রীর পুনরায় এই আইন ফিরিয়ে নিয়ে আসার ঘোষণায় বেআইনি পশুহত্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


