Bengal liberty : রাজ্যে দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে কোনওটিতে জযলাভ করতে না পারলেও প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে কংগ্রেসের উত্থান রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। নজর কেড়েছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বাম, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের দেওয়া প্রার্থীকে পিছনে ফেলে কংগ্রেস প্রার্থী উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। মিলন ম্যাজিকের ওপর ভর করেই ২০ বছর পর নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল কংগ্রেস। অন্যদিকে রেজিনগরেও তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস প্রার্থী। গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় উপনির্বাচনের এই ফলাফল রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এবারের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে মিলন প্রধানের নাম ঘোষণা করে। মিলনকে প্রার্থী করার পরই পুরনো একটি খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শেষ পর্যন্ত গোটা বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট মিলনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে ও তাঁকে ভোটে লড়তে বলে। এই সব ঘটনা সামনে আসার মধ্য দিয়ে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে মিলন ক্রমেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এদিন নন্দীগ্রামে ফল প্রকাশের দিন সকলের চোখ ছিল সেই মিলনের দিকে। প্রশ্ন ছিল, মিলনকে কী পারবে শুভেন্দুর দাঁড় করানো প্রার্থী হাসিরানি রথকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে।
সেই কাজে সফল না হলেও কংগ্রেসকে নিরাশ করেনি মিলন। যেখানে পাঁচ মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী শেখ জারিয়াতুল হোসেন মাত্র ৭৯৪টি ভোট পেয়েছিল, সেখানে এবারে মিলন প্রধান কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে ভোট পেয়েছেন ৪১,৬৭৪টি। এবারে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মমতা তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও প্রার্থী দেওয়া হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেছিলেন। তাহলেও মিলনকে প্রার্থী করার পর কংগ্রেসের এই ভোট প্রাপ্তি সকলেরই নজর কেড়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে এই নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে লড়ে শেখ সুফিয়ান ৫৩,৪৭৩টি ভোট পেয়েছিল। সেবারও এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী দ্বিতীয় স্থানে ছিল।
আরও খবর
বলা যেতেই পারে, ২০ বছর পর নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল কংগ্রেস। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর কেন্দ্রেও কংগ্রেসের ভোট প্রাপ্তি যথেষ্টই উল্লেখযোগ্য। রেজিনগরে বিজেপি বিরোধী ভোট একাধিকভাগে ভাগ হয়ে গেলেও নিজেদের অস্তিত্ব ভালোভাবে ধরে রাখতে পেরেছে কংগ্রেস। রেজিনগরে কংগ্রেস প্রার্থী আধুল্লাহিল কাফি পেয়েছেন ৬,১৬৮টি ভোট। পাঁচ মাস আগে গত বিধানসভা ভোটে এই রেজিনগরে কংগ্রেস প্রার্থী জিল্লু শেখ ভোট পেয়েছিল ৪,১০১টি। ফলে গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এই উপনির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট বেড়েছে। এই কেন্দ্রে এবারে হুমায়ুনের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গুলাম নবি আজাদ জয়লাভ করতে পারেনি। তাঁদের ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাও কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের এই ভোট প্রাপ্তির হার বৃদ্ধি রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


