Bengal Liberty : আগেই রেকর্ড তৈরির কথা বলেছিলেন। নন্দীগ্রামে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। কিন্তু এমন বিরাট জয়ের পরেও যেন ‘ পা যেন মাটিতেই থাকে’ বলে সতর্কবার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । রবিবার নন্দীগ্রামে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার বার্তা দিলেন তিনি । বিপুল জয়কে কেন্দ্র করে আত্মতুষ্টি বা ঔদ্ধত্য নয়, বরং মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামের বিতর্কিত ‘জাহাজবাড়ি’ প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দীগ্রাম শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই কেন্দ্র থেকেই তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের বড় অধ্যায় রচিত হয়েছে। রেকর্ড ভোটে জয়ের পর নিজের সেই রাজনৈতিক গড়ে পৌঁছে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, মানুষের আস্থা ধরে রাখাই এখন প্রধান দায়িত্ব। শুভেন্দু দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “কেউ এমন কোনও কাজ করবেন না যাতে লোকে বলতে পারে, আরেকটা জাহাজবাড়ি তৈরি হয়েছে।”
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের প্রাসাদোপ্রম বাড়িকে ঘিরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। বাড়িটি জাহাজের আদলে তৈরি হওয়ায় স্থানীয় এলাকায় ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত। একজন সামান্য তৃণমূলের বুথ এজেন্টের বাড়ির বহর যা তাবড় নেতা মন্ত্রীর বাড়িকে হার মানায়। শেখ সুফিয়ানের বাড়ির বিপুল আড়ম্বর নিয়ে অতীতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর আজকের মন্তব্যকে সেই বিতর্কের প্রেক্ষিতেই তৃণমূলকে নিশানার উদাহরণ।
আরও খবর

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর উপহার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় স্পষ্ট, বিপুল জয় মানেই ঔদ্ধত্য নয়, বরং আরও বেশি দায়িত্ব। মানুষের সেবা, সাংগঠনিক সংযম এবং মানুষের আস্থা বজায় রাখাই বিজেপির নেতা-কর্মীদের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত বলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ” আমি ভবানীপুরের বিধায়ক হলেও, যতদিন বেঁচে থাকবো নন্দীগ্রামের ভোটার থাকব। প্রতিশ্রুতি দেওয়া সব কিছুই সময়ে সময়ে বাস্তব হবে। হাসিরাণী রথ নন্দীগ্রামের সেবিকা হয়ে কাজ করবেন।”


