Bengal Liberty : “প্রকৃতিকে ধ্বংস করার জন্য যা যা করা দরকার, সবকিছুই করেছে তৃণমূল।” সোমবার সকালে কুঁদঘাটে জলাশয় পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এভাবেই বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে একের পর এক জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল। পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি জলাশয় বুজিয়ে প্রোমোটার রাজকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। কেএমডিএ এলাকায় পাঁচ হাজার পুকুর বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার কলকাতা পুরসভা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে কুঁদঘাটে দুটি জলাশয় পুনরুদ্ধারের বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে জলাশয় দুটির পুনরুদ্ধার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, জলাশয় দুটির নামকরণও করেন তিনি। একটি জলাশয়ের নাম রাখা হয়েছে ‘শিব সরোবর’, অন্যটির নাম ‘শক্তি সরোবর’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন
“কলকাতা পুরসভার ১১ নম্বর বরোর ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইটখোলা-১ ও ইটখোলা-২ এলাকার এই দুটি জলাশয় পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। জলাশয় দুটিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে সবুজ বেষ্টনী ও পার্ক। সেখানে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি তৈরি করা হবে হাঁটার রাস্তা। জলাশয়গুলিতে মাছ চাষেরও ব্যবস্থা করা হবে।”
আরও খবর
জলাশয় পুনরুদ্ধারের এই কর্মসূচির মঞ্চ থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জলাশয় শুধু জল ধরে রাখার মাধ্যম নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে জলাশয়গুলিকে কার্যত পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ দিনের কর্মসূচি থেকে পুরভোটের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। গণদেবতার আশীর্বাদ পেলে রাজ্য সরকার ও পুরসভার যৌথ উদ্যোগে মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে পুরভোটকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে।


